হোম » সারাদেশ » মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ দৌলতপুরে ইউ,এন,ওকে হয়রানি অভিযোগ

মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ দৌলতপুরে ইউ,এন,ওকে হয়রানি অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ৪অক্টোবর কালের কণ্ঠ, নিউজ বাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং জুম বাংলা ডটকম সহ বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে নিউজ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার ভিন্ন বিষয় বেরিয়ে আসে। ওই নিউজ গুলোতে প্রকাশ করা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে আবু জাফর ওরফে নফর আলিকে বেধড়ক পেটানোর কারণে গুরুতর আহত আবু জাফর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাড়িতে মারা যায়।

কিন্তু ওই উপজেলার ঘটনাস্থল বাচামারা বাজারে গিয়ে সরেজমিনে তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন বিষয়। স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার ও বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, আবু জাফরের পেটে গ্যাস জমে পেট ফুলে যাওয়ার কারণে গত ১৫ মে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১৬ মে সকাল সাড়ে ১১ টায় আবু জাফর ওরফে নফর আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

আবু জাফর এর ভাই সালাউদ্দিন ঠান্ডু এর ফেসবুক আইডি পর্যালোচনা করে আবুজাফরের ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। কিন্তু, বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত নিউজে উল্লেখ আছে, আবু জাফর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাড়িতে মারা যান। যা একেবারেই সত্য নয়।

এছাড়া, মৃত ব্যক্তি আবু জাফর এর ফেসবুক আইডি (Jafor Ali) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাঁর মৃত্যুতে অনেক বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজন এর পোস্টে এবং পোস্টের কমেন্ট সেকশনে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পেটে গ্যাস জমে পেট ফুলে মারা যাওয়ার বিষয় উল্লেখ আছে। পেটে গ্যাস জমে মৃত্যুর সাথে আবু জাফরের ভাই সালাউদ্দিন ঠান্ডু কর্তৃক বেধড়ক পিটুনীর অভিযোগের কোন যোগসূত্র স্থানীয় অনুসন্ধানে পাওয়া যায় নি।

ঘটনার অনুসন্ধানে উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফের সাথে কথা বললে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসানের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে আমি সর্ব সময় উপস্থিত ছিলাম। ওই সময়ে মৃত আবু জাফরকে ইউএনও কর্তৃক পিটিয়ে আহত করার যে অভিযোগ তার ভাই সালাউদ্দিন ঠান্ডু করেছেন এর কোন সত্যতা বা ভিত্তি নেই বা এরকম কোন ঘটনাও ঘটেনি। এই ঘটনার বিষয়ে ওই সময়ে ইউএনওর গানম্যান মোঃ আঙ্গুর হোসেন জানান আমি ইউএনও স্যারের সাথেই ছিলাম ওই দিন মোবাইল কোর্ট চলাকালীন কাউকে কোন মারধর বা পিটুনির ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন, ২০২১ সালের  জুলাই মাসের ৬ তারিখের ঘটনা, করোনার থাবায় গোটা দেশ যখন আক্রান্ত, করোনা সংক্রমণ রোধে  ঔষধ এবং জরুরি কিছু পরিসেবা ছাড়া অন্যান্য কোন দোকান-পাট রাত ৮টার পর বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা জারি হয় এবং বিভিন্ন জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে তা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।  বিভিন্নভাবে খবর পাই যে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাচামারা বাজারের বেশ কিছু দোকান সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখে। চরাঞ্চলের এই ইউনিয়নে বর্ষায় নৌকায় এবং শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেলে ( খেয়া পার হয়ে) যেতে হয়। গত বছরের জুলাই মাসে পুলিশ সহ মোবাইল কোর্টে  বাচামারা ইউনিয়নের বাচামারা বাজারে যাই আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে অনেকগুলো দোকান সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খোলা রাখতে দেখি, ফোর্সসহ মোবাইল কোর্ট দেখে অধিকাংশ দোকান দ্রুতই বন্ধ করে দিলেও  কয়েকটি দোকান খোলা রাখে।  সাথে থাকা ফোর্স নিয়ে এত রাতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখার কারন জিজ্ঞাসা করলে  দোকান মালিক কোন যৌক্তিক উত্তর দিতে পারে নাই।  মোবাইল কোর্টের রায়ে অর্থদণ্ড আরোপ করলে কয়েকটি দোকান জরিমানার অর্থ প্রদান করে তবে আবু জাফর নামে এক দোকান মালিক পনের বিশ মিনিট সময় প্রার্থনা করলে তাকে সময় দেওয়া হয়। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে জুম মিটিং শুরু হয় যাতে আমি বাচামারা বাজারের পাশেই বাচামারা ইউনিয়ন পরিষদে বসে  যোগদান করি।  জুম মিটিং চলাকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেম্বার গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় অনেকেই পরিষদে আসে জুম মিটিং শেষ হতেই ঠান্ডু নামের এক যুবক আমার কাছে এসে মুঠোফোন ধরিয়ে দিয়ে বলেন,” এই নিন  ভাইয়ের সাথে কথা বলেন” আমি হকচকিয়ে গেলেও ফোন নেই, কথা বলতে গিয়ে দেখি আমি আমার নিজের বাবার সাথে কথা বলছি এতে আমি অত্যন্ত বিব্রতবোধ করি এবং বাবাকে বলি, ” আমার অফিশিয়াল বিষয়ে অপরিচিত লোকের মুঠোফোনে কথা বলতে আমি খুবই বিব্রতবোধ করছি” একথা বলে ফোন কেটে দেই। পরবর্তীতে জানতে পারি ওই যুবক ঠান্ডু ( এলজিইডির আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক যে সংযুক্তিতে দৌলতপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী ঘিওর উপজেলায় কর্মরত)  আমাকে বলে আপনি চাইলে বাংলাদেশর যেকোনো লোক দিয়ে আপনাকে ফোন দেওয়াতে পারি। আমার ভাইয়ের দোকান করা জরিমানা আপনাকে দিতে পারবো না। আমি সাথে থাকা পুলিশ কে বলি, যেহেতু ঠাণ্ডু আসামি না বা মোবাইল কোর্টের মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, সেহেতু তাকে আমার সামনে থেকে নিয়ে যান ঠান্ডু বলে উঠে,” কয়েক মিনিটে তোর বাপকে পাইছি, বুঝিস না আমি কে?” এ কথা শোনার পর আমি  তাকে কক্ষ ত্যাগ করতে বলি। অতঃপর অর্থদণ্ড পরিশোধ করলে  আমরা উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।
উল্লেখ্য  ঐ ঘটনার ১ বছর পর এই অভিযোগ দাখিল করে। মূলত আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার করি, এতে দৌলতপুর উপজেলার একটি বিশেষ মহলের সার্থহানি ঘটে এতে তারা বিভিন্ন বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ সম্বলিত দরখাস্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা শুরু করে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!