হোম » প্রধান সংবাদ » উপমহাদেশের জনপ্রিয় ইতিহাসবিদ ও গবেষক  আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজার ইন্তিকাল 

উপমহাদেশের জনপ্রিয় ইতিহাসবিদ ও গবেষক  আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজার ইন্তিকাল 

এম.এ রাশেদ, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ  গত ১৪-ই এপ্রিল (বুধবার( রাতে উপমহাদেশের জনপ্রিয় ইতিহাসবিদ ও গবেষক আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজা ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না নিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাহী রাজেউন) তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মহান ব্যাক্তি গোলাম আহমদ মোর্তাজা যার বই এবং তাকরিরের মাধ্যমে মানুষ হাজারো ইতিহাস জানতে পেরেছে। গোলাম আহমাদ মোর্তজা জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের’র বর্ধমান জেলার মেমারিতে। তিনি একজন বক্তা, গবেষক ও লেখক। তিনি দুই বাংলার অর্থাৎ ভারত বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন পলাশীর যুদ্ধ, অন্ধকূপ হত্যাকান্ড, মহামতি আকবরের কথা এমনি অনেক
নতুন তথ্য তিনি প্রমাণসহ পেশ করেন। যা আসলে আমরা যেভাবে জানি সেভাবে বলা হয়নি। তার বই পাঠে বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে পড়ে যায় পাঠক, কিন্তু গোলাম আহমাদ মোর্তজা এমনভাবে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন। তাতে তাকে মেনে নিতে হয়েছে ভারতের বর্তমান ঐতিহাসিকদের। বিখ্যাত ইতিহাসবিদরা তার তথ্য মেনে নিয়েছেন এবং প্রশংসা করেছেন। ইতিহাসের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দেন যা চাপা পড়ে ছিলো ইতিহাসের পাতায়। তিনি সেগুলোকে সামনে তুলে আনার চেষ্টা করেন। তাকে নিয়ে এ পর্যন্ত ভারতে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তিনি বক্তব্য দিয়ে থাকেন এবং পশ্চিমবঙ্গে তিনি “বক্তা সম্রাট’ নামে পরিচিত। তিনি বিখ্যাত হয়েছেন তার কয়েকটি ইতিহাসের বই ও ইতিহাস ভিত্তিক বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে। ইতিহাসের ইতিহাস,
চেপেরাখা ইতিহাস, বাজেয়াপ্ত ইতিহাস, পুস্তক সম্রাটসহ অনন্য ইতিহাসের বইয়ের মাধ্যমে তিনি সর্বপ্রথম আলোচনায় আসেন। ভারতের গতানুগতিক ইতিহাস বিষয়ক পাঠ্যপুস্তকগুলোতে মুসলিমদের নিয়ে লিখিত বিভিন্ন তথ্য তিনি বানোয়াট দাবী করেন। সেই তথ্যগুলোর বিরোধীতা করেন এবং সেগুলো মিথ্যা তথ্য তিনি প্রমাণসহকারে খণ্ডন করার চেষ্টা করেন এই  বইগুলোতে। পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীজি, রাজা রামমোহন রায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, দেবেন্দ্ররনাথ ঠাকুর সম্বন্ধে সমালোচনা করেন এবং তাদের চাপা পড়া ইতিহাস সামনে তুলে এনে প্রমাণসহকারে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের সরকার ১৯৮১ সালে তার ‘ইতিহাসের ইতিহাস’ বইটি বাজেয়াপ্ত করে। এরপর তিনি একেরপর এক ইতিহাসের বই প্রকাশ করতে থাকেন, যার সিংহভাগ বই সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সরকার বাতিল করে। কিন্তু বাংলাদেশে তার প্রতিটি বই বিপুল ভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার বইগুলো করাচিতেও উর্দু ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!