
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান: “বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে সংগঠিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম ও গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে” বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীর ।
গতকাল শুক্রবার বিকাল তিনটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া এভিনিউতে মানবাধিকার সংগঠন “মায়ের ডাক” এর আয়োজনে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক সানজিদা আক্তার তুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, মায়ের ডাকের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের ডেকে একসাথে ইফতার করেছিলেন এবং তাদের মুখে গুমের লোমহর্ষক ঘটনা শুনেছিলেন।তখন থেকেই ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সাথে আমরা আছি,যখনই ডাকে তখনই ছুটে আসি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে গুম-খুনের গণ তদন্ত হবে,গুমের শিকার পরিবারগুলোকে ডেকে তাদের কাছ থেকে গুমের সত্য ঘটনাগুলোর বর্ননা শুনা হবে,এক কথায় গণ শুনানি হবে এবং গুম-খুনের হোতাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।এত এত গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নের জন্য পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
আলোচিত গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ইলিয়াসকে যখন গুম করা হয় তখন ইলিয়াসের ছোট মেয়ের বয়স মাত্র ছয়। আমরা যখন ইলিয়াসের বাসায় যাই তখন তার স্ত্রী বললেন মেয়েটি দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে কখন বাবা আসবে।আর বাসায় অপরিচিত কেউ আসলে ভয়ে-আতঙ্কে সে চিৎকার করে উঠে।এমন একটা ভয়াবহ দানব সরকার আমাদের উপর চেপে বসেছিল গত দেড় দশকেরও বেশি সময়। কিন্তু আমাদের ছাত্ররা, তরুণরা এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়ে,রক্ত দিয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন,এই যে সুমনের মা এখানে বসে আছেন, তার পরিবারের সাতজন সদস্য জীবন্ত নাই হয়ে গেল। তার আহাজারির কোনো উত্তর আমাদের কাছে নাই।উত্তরায় আমার বাসার কাছেই ছাত্রদল নেতা মুন্না গুম হয়ে গেল। জীবিত কিংবা মৃত কোনো অবস্থায়ই ফিরে এলো না।আমরা যারা বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ, হাসিনা সরকার আসার আগে আমরা কখনো কল্পনাও করিনি যে মানুষ এভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক গুম হয়ে যাবে। আমরা এক সময় খবরের কাগজে পড়েছি যে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে মানুষকে গুম করা হতো। কিন্তু বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দানব সরকার অসংখ্য মানুষকে গুম করে নিশ্চিহ্ন করে দিল।সারাদেশে দুই হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে, বিএনপির এক হাজার সাত শত নেতাকর্মীকে গুম করেছে। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় ছয় বছর কারাগারে রেখেছে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য করেছে। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নামে ১০০ থেকে শুরু করে ৪০০/৫০০ পর্যন্ত মামলা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কারো ভাই আছে,কারো বোন আছে,কারো মা আছে,কারো বাবা আছে,কারো স্ত্রী আছে,কারো আবার এতিম সন্তান আছে তাদের কাউকেই আমরা এই ষোলটি বছর কোনো উত্তর দিতে পারিনি।জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য লজ্জার।এই ঘটনাগুলো প্রতি মূহুর্তে আমাদেরকে ব্যথা দেয়,পীড়া দেয়। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাদের আপনজনের লাশ হলেও ফেরত চায়,আয়না ঘরে তাদের স্বজনদের আঙ্গুলের আঁচড়ের দাগ হলেও দেখতে চায়।
তিনি আরো বলেন আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এসব গুম খুনের বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে চাই।এটা আমাদের দায় ও দায়িত্ব। সমাবেশে অন্যান্যের বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, গুমের শিকার সুমনের বৃদ্ধা মা এবং “মায়ের ডাক” এর আহ্বায়ক সানজিদা আক্তার তুলি।
সমাবেশ শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে গুমখুনের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক