হোম » আজকের এই দিনে » দেড়শ’ যাত্রী বাঁচিয়ে-বাঁচতে পারলেন না পাইলট নওশাদ

দেড়শ’ যাত্রী বাঁচিয়ে-বাঁচতে পারলেন না পাইলট নওশাদ

আওয়াজ অনলাইনঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিয়ে মাস্কাট থেকে ঢাকা ফিরছিলেন পাইলট নওশাদ আতাউল কাইয়ুম।কিন্তু মাঝ আকাশে হঠাৎই অসুস্থ বোধ করেন। জরুরি অবতরণ করাতে হয় প্লেনটিকে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়।কিন্তু শেষপর্যন্ত তাকে আর ফেরানো গেল না।

কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে সোমবার তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। ভারতের নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার স্থানীয় সময় ১০টা ৪৫ মিনিটে তার লাইফসাপোর্ট খুলে দেন হাসপাতালটির চিকিৎসকরা। সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

সেদিন প্লেনের টায়ার এভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; এরপরও নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন পাইলট নওশাদ,তিনি চলে গেলেও প্লেন চালনায় তার দক্ষতার কথা সবাইকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। একবার তিনি প্রায় দেড়শ’ যাত্রীকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন পেশাগত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের বলে নিরাপদে একটি ফ্লাইট অবতরণ করিয়ে। সেই বীরত্বের কথাই মানুষ বেশি মনে করছে।

কিন্তু কীভাবে বাঁচিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ? ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বরের ঘটনা। এ দিন ভোরে মাস্কাট বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ প্লেনে ১৪৯ যাত্রী ও সাত ক্রু নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেন ক্যাপ্টেন নওশাদ। কিন্তু বিজি-১২২ ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করার পর মাস্কাট বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে নওশাদকে জানানো হয়, রানওয়েতে টায়ারের কিছু অংশ পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত তার প্লেনের হতে পারে।

তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং সতর্ক হয়ে বসেন।এরপর অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাপ্টেন নওশাদ মুহূর্তের মধ্যে তার ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। তার অনুরোধে ঢাকায় জরুরি অবতরণের জন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।সেদিন প্লেনের টায়ার এভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; এরপরও নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন পাইলট নওশাদ, পেশাগত দক্ষতা দেখিয়ে অবতরণের আগে নওশাদ ফ্লাইটটি নিয়ে রানওয়ের উপরে দুই বার লো-লেভেলে ফ্লাই করেন।
তখন দেখা যায়, আসলেই প্লেনটির পেছনের দুই নম্বর টায়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাতেও সাহস হারাননি। অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত টায়ার ও ল্যান্ডিং গিয়ারসহ নিরাপদে ফ্লাইটটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন নওশাদ। সবাই সুস্থ ও নিরাপদে প্লেন থেকে নেমে আসেন সেদিন।এই পেশাগত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। বৈমানিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএএলপিএ) ৪০ বছর বয়সী এই পাইলটকে প্রশংসাপত্রও দেয়েছিল সেদিন।গত শুক্রবার সকালে বোয়িং-৭৩৭-৮০০-এর (বিজি-২২) ফ্লাইটটি ১২৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ওমান থেকে উড্ডয়ন করে।

এরইমধ্যে পাইলটের হার্ট অ্যাটাকের পর ভারতের নাগপুরে এসে জরুরি অবতরণ করে প্লেনটি। তবে এতে আরোহী কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। পাইলট নওশাদকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে তার এনজিওগ্রামও হয়। এরপরও কিংসওয়ে হাসপাতালে তিনি কোমায় চলে যান। তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে যায় বলে জানান চিকিৎসকরা।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!