
মোঃ হানিফ, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ডেন্টাল চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারনা। যেন দেখার কেউ নেই। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রেশন ও ছাড়পত্র ছাড়াই ডাক্তার লিখে কোন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার বিধান না থাকলেও এখানে নিজের নামে প্যাড ছাপিয়ে নামের আগে ডাক্তার লিখে প্রতারনা করছে। এ সুযোগে এ সব নামধারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। প্রশাসনের
তদারকি না থাকার কারনে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রায় অর্ধশত লাইসেন্স বিহীন ডাক্তারের চেম্বার রয়েছে। ডিজিটাল ব্যানার ও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের নামে প্যাড ছাপিয়ে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে। কোন কোন সময় দেখা যায় এলাকায় মাইকিং ও প্রচার পত্র বিলি করে রোগী সংগ্রহ করে থাকে। বিলাস বহুল মার্কেটে রুম ভাড়া নিয়ে অনুমোদন ছাড়াই চেম্বার খুলে বসে। চেম্বারের বাহিরে বিডিএস পাস ডাক্তারের নাম সাইন বোর্ডে ঝুলিয়ে রাখলেও ডাক্তার কখনো আসেন না। মাঝে মধ্যে এলেও ২/১ ঘন্টা চেম্বার করে চলে যান। ভিতরে অনভিজ্ঞ ও
ডিগ্রি নেই এমন ব্যক্তি দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। পৌর এলাকার সোনাইমুড়ী বাজারে ২/১ জন বিডিএস পাস ডেন্টাল ডাক্তার রয়েছে। এসব ডাক্তারা তাদের ইচ্ছা মত ফি নিয়ে থাকে বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে। সোনাইমুড়ী পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন হাট বাজারে প্রায় অর্ধশত ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে। সে গুলোর অধিকাংশের নেই অনুমোদন, নেই অভিজ্ঞ ডাক্তার। পৌর এলাকার কলেজ রোডে রাজিব ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী রাজিব গুহু মজুমদারের চেম্বারের বাহিরে একজন বিডিএস পাস ডাক্তারের নাম লেখা থাকলে ঐ ডাক্তার এখানে বসেন না। ঐ
চেম্বারের মালিক নিজে নামে প্যাড ছাপিয়ে ৫০০ টাকার বিনিময়ে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। পৌর এলাকার কলেজ মার্কেটে মিজান ডেন্টাল কেয়ার, ঢাকা ডেন্টাল, ইমা প্লাজার সামনে আনসারী ওরাল এন্ড ডেন্টাল কেয়ার, হাই স্কুল রোড মর্ডান ডেন্টাল কেয়ার ও ডি ডেন্টাল কেয়ারে অভিজ্ঞ ডাক্তার নেই। অনভিজ্ঞ ও হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে চিকিৎসা। সোনাইমুড়ী বাজারের একজন ডেন্টাল রোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, এ ধরনের ব্যবসা অত্যান্ত লাভ জনক। চেম্বারের ডাক্তার কাগজে কলমে দেখানো হয়। বাস্তবে অনভিজ্ঞ লোকেই
চিকিৎসা দিয়ে থাকে। সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন অফিস তদারকি না করায় রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ডেন্টাল কেয়ারের অনুমোদন নিতে হলে ডাক্তারের নামে ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি,
বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন, ডাক্তারের ২ কপি পার্সপোট সাইজের ছবি ও নির্দিষ্ট অংকের সরকারী ফি জমা দিতে হয়। কিন্তু এসব ডেন্টাল কেয়ারের কোনটিরই অনুমোদন নেই। নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন মাছুম ইফতেখার জানান, সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা করে এসব অনুমোদনহীন ডেন্টাল প্রতিষ্ঠান গুলো অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এতে রোগীরা প্রতারিত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

আরও পড়ুন
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান
বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা