
মো: তারিকুর রহমান চুয়াডাংগা প্রতিনিধি : চুয়াডাংগা জেলার জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেড়েছে চোরের উৎপাত। চুরি করছে সাইকেল, ভ্যান, নসিমন, করিমন ও মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী। চুরি করা এসব সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন দোকানে। কিন্তু এসব চুরি করা সামগ্রী যারা কিনছেন সেসব ব্যবসায়ীরা তাদের নাম ঠিকানা প্রকাশে অপারগতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোন পুরাতন জিনিস কিনলে বিক্রেতার পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা, ছবি এবং আইডি কার্ড / জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি রাখা উচিত। কিন্তু অধিক লাভের আশায় তারা তা করছেন না। যা পরোক্ষ সহযোগিতার আওতায় পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার আশপাশের এলাকার ব্যবসায়িক রাজধানী হচ্ছে জীবননগর। এখানে যেকোন নতুন পুরাতন সাইকেল, ভ্যান, পাখিভ্যান, নসিমন, করিমন ক্রয় বিক্রয় করে থাকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষজনসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার মানুুুষ। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে একটি শক্তিশালী চোর সিন্ডিকেট এবং থলেনদার। সব থেকে অবাক করা বিষয় হলো সাইকেল চোরগুলো সব টিনেজার।
যাদের অধিকাংশই স্কুল কলেজেরই ছাত্র। টাকার জন্য অল্প বয়সে স্কুল কলেজের সাইকেল স্ট্যাণ্ড কিংবা ব্যস্ততম জায়গা থেকে সাইকেলসহ অন্যান্য জিনিস চুরি নিয়ে এসে জীবননগর শহরের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করে থাকে। আর দোকানীরাও নাম মাত্র মূল্যে এসব চুরি করা সামগ্রী কিনে বেশী লাভের আশায় সামান্য কিছু জিনিস পরিবর্তন এবং রংচং করে সেগুলো এলাকাতেই বিক্রি করে চড়া দামে। অনেক সময় চোর ধরা পড়লেও অভিভাবকরা মুচলেকা এবং জরিমানা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তবে বেশী চুরি হচ্ছে পুরাতন বাইসাইকেল।
আর চোরের থলেনদার যেসব সাইকেল ব্যবসায়ী তাদের দোকান বা গোডাউন থেকে চুরি করা সাইকেল উদ্বার করা হলেও তারা দায়সারা বক্তব্য দিয়েই খালাস। তাদের কাছে চোরের নাম ঠিকানা জানতে গেলে তারা মারমুখী আচরণ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ কাজে ব্যর্থ হলে ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে পড়ে স্থানীয় নামধারী কিছু ব্যক্তিদের দিয়ে।
অথচ সাইকেল ব্যবসায়ী সমিতির নিয়ম অনুসারে কোন সাইকেল বিক্রয় করতে হলে বিক্রেতার এককপি ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি কিংবা পরিচিত কাউকে সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া ১৮ বছরের নিচে কারোর কাছ থেকে সাইকেল কিনতে হলে অবশ্যই অভিভাবক সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে, না হলে তার কাছ থেকে সাইকেল ক্রয় করা যাবে না।
গত শুক্রবার দওনগর রোডের আলিম মাদ্রসার পাশে সাইকেল রেখে নিজ ধানী জমি দেখতে যায় নাম পরিচয় জানাতে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি। ফিরে এসে দেখে সাইকেল ঐ স্হানে নেই। ঘটনার পরেরদিন শনিবার দুপুরে চ্যাংখালী রোডের মহানগর সিনেমা হলের পাশে এক সাইকেল দোকানীর দোকান থেকে হারিয়ে যাওয়া সাইকেল খুঁজে পাওয়া যায়।সাইকেলটির মালিকানা দাবি করলে উল্টো মারমুখী আচরণ করে দোকানদার। পরে লোক মারফত সাইকেলটি ফেরত দেয় এবং স্হানীয় সুধীদের দিয়ে ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। হুমকি প্রদর্শন করে যেন এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে।
পরে চোর সনাক্ত করে ঐ সাইকেল দোকানীকে ফোনে ডাকা হলে, ঐ ব্যক্তি বলে চোরের নাম জেনে গেছেন এখন আমার আর এ বিষয়ে কোন মাথাব্যথা বা দায়িত্ব নেই। তার পরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে তিনি ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ের পর তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা যায়।
সাইকেল চুরি ছোট বিষয় হলেও এখান থেকেই অপরাধীদের হাতে হাতেখড়ি হয়। তাই এই সব চিহ্নিত থলেনদারদের আইনের আওতায় আনা উচিত৷ কারণ চুরি করা জিনিস কোথাও বিক্রি করতে না পারলে চুরি এমনিতেই কমে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতনমহল।

আরও পড়ুন
জামালপুরে অস্তিত্বহীন রাইসমিলের নামে সরকারি বরাদ্দের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মেলান্দহে ৪ লাখ টাকার হেরোইনসহ ধরা পড়ল স্বামী-স্ত্রী
ডিমলায় একদিনে পাঁচ খাতে সরকারি সহায়তা বিতরণের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য