হোম » প্রধান সংবাদ » করোনা নয়, ভাঙন আতঙ্কে মধুমতি নদী তীরের মানুষ

করোনা নয়, ভাঙন আতঙ্কে মধুমতি নদী তীরের মানুষ

মিয়া রাকিবুল,আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। প্রত্যেক দিনই এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের সর্বত্রই বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। তবে করোনার এ আতঙ্ক খুব মামুলি হয়ে ঠেকেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের মধুমতি নদী তীরের বাসিন্দাদের কাছে।কারণ বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই বাড়ছে ভাঙন, তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অসংখ্য বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় করোনা আতঙ্ক থেকে নদীভাঙনই ভাবিয়ে তুলছে তাদের।
স্থানীয়রা বলছেন, মধুমতি নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর স্রোত প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। এদিকে ভাঙন ঠেকাতে অনেক আকুতি, মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও কার্যত তাতে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুমতি নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজরা, চর আজমপুর, চরডাঙ্গা, চাপুলিয়া, চরধানাইড়, শিকিপাড়া, চাপুলিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মাঝে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের যাওয়া আসার একমাত্র বাজড়া-চরডাঙ্গা পাকা সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সাথে নদীগর্ভে চলে গেছে গুচ্ছগ্রামের ১২৫টি বাড়ি, বাজরা পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদসহ নানা স্থাপনা।
এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে বাজরা চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালসহ কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়িসহ নানা স্থাপনা। ভাঙন ঝুঁকিতে গত এক সপ্তাহে উপজেলার চর আজমপুর গ্রামের লিচু মোল্যা, মিজুন শেখ, ওহিদুল শেখ, ইখতিয়ার শেখ, হাসান চৌধুরি, হোসেন চৌধুরি, উজ্জ্বল সিকদার, মোতালেব শেখ, সরাফত শেখ, ফরহাদ শেখসহ প্রায় অর্ধশত পরিবারের বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ‘নভেল করোনাভাইরাস আমাদের বিচলিত করতে পারছে না। কেননা নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব একদিন চলে যাবে। কিন্তু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলে তখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।’
টগরবন্ধ ইউনিয়নের চর আজমপুর গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান (শোভন) নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘নদী আমার বাড়ি থেকে অল্প কয়েক গজ দূরে আছে। এবছর বাড়ি মনে হয় আর থাকবে না। আমাদের এলাকায় গত কয়েকদিনে নদীর পারে থাকা ১৪-১৫টি পরিবার তাদের বাড়ি ঘর ভেঙে অন্যত্র চলে গেছে। আরো অনেকেই যাওয়ার জন্য বাড়ি ঘর ভাঙতে শুরু করেছে।’
এ বিষয়ে টগরবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমাম হাচান (শিপন) বলেন, ‘আমরা বহুবার নদী ভাঙন রোধে স্থানীয় এমপি, প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। ভরা বর্ষার সময় যখন ভাঙনের তান্ডব শুরু হয় তখন মানুষকে স্বান্তনা দেয়ার জন্য শুধুমাত্র কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়। তাতে অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয় না।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘মধুমতি নদীর ভাঙ্গন রোধে প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। করোনার কারনে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। তবে এই বন্যা মওসুমে স্থায়ী প্রকল্প না করতে পারলেও ভাঙন কবলিত এলাকা নির্দিষ্ট করা রয়েছে সেসব এলাকায় ভাঙ্গন রোধে অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!