হোম » প্রধান সংবাদ » ফুলছড়ির ভন্ড ফকির জাফিরুলের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নিতো দালাল হাবিব

ফুলছড়ির ভন্ড ফকির জাফিরুলের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নিতো দালাল হাবিব

শাহজাহান সিরাজ, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়ায় ভন্ড  তান্ত্রিক ফকির জাফিরুলের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসিক মাসোহারা নিতো স্থানীয় দালাল হাবিবুর রহমান হাবিব। ঐ ভন্ড ফকিরকে গ্রাম্য কবিরাজ হিসেবে আশপাশের এলাকায় প্রচার চালাতো এই দালাল হাবিব এবং ঐ ভন্ড তান্ত্রিক ফকিরের ছোট ভাই রাশিদুল। ১৮ মার্চ শনিবার সকালে সাংবাদিকদের নিকট গোপন খবর আসে যে,গাইবান্ধা শহর থেকে দুইজন মহিলা ঐ ভন্ড তান্ত্রিক ফকির জাফিরুলের কাছে গিয়েছে বান (যাদু) কেটে নেয়ার জন্য।

এ খবর পেয়ে সাংবাদিকদের একটি টিম সেখানে গিয়ে ঐ ভন্ড তান্ত্রিক ফকিরকে তার জিন হাজির করার আসনে বসা অবস্থায় পায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ঐ ভন্ড ফকির জানান, মাদার নামের একজন জিনকে হাজির করে তিনি মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে দেন। এছাড়া করোনা ভাইরাসের রোগীকেও জিনের মাধ্যমে সুস্থ করে দেয়ার চিকিৎসাও দেন। ঐ দিন ঐ সময় তিনি গাইবান্ধা শহর থেকে যাওয়া এক মহিলার মেয়ের কাপড়ের ব্যবসার লোকসান ঠেকাতে বান (যাদু) কেটে তাবিজ কবজ এবং ফকিরালি করে দিচ্ছিলো।

তাবিজ-কবজ দিয়ে কি ব্যবসায় সফলতা পাওয়া যায়? এইসব ভন্ডামী কতোদিন   ধরে করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ঐ ভন্ড ফকির হুমড়ি খেয়ে এক সাংবাদিকের পা জড়িয়ে ধরে বলেন, আর কোনদিন করবনা স্যার,, এবারের মতো ক্ষমা করে দেন। এসময় ঐ ভন্ড ফকির তার মেয়ের অকাল মৃত্যুর জন্য এবং রেখে যাওয়া একটি শিশু সন্তানের চিকিৎসার টাকার যোগান দিতেই এইসব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলেও স্বীকার করেন।

কান্নাজড়িত কন্ঠে ক্ষমা চাওয়ার এক পর্যায়ে আর কোনদিন এই ধরনের প্রতারণা করবেন না বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে অঙ্গীকার প্রদান করে আকুতি- মিনতি করে। পরে সাংবাদিকগন তাকে ভবিষ্যতে আর কোনদিন যেন এইসব প্রতারণা না করে সেজন্য সাবধান করে দিয়ে চলে যায়। এরপর সাংবাদিকগন গাইবান্ধায় ফিরে আসার পথে ঐ ভন্ড ফকিরের দালাল এবং তার সঙ্গে মাসিক মাসোহারায় চুক্তিবদ্ধ স্থানীয় দালাল হাবিব নামের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানতে চায় এবং কেন তাকে না জানিয়ে ফুলছড়িতে সাংবাদিকরা ঢুকেছে সেটিও কৈফত হিসেবে জানতে চায়।

সাংবাদিকদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল যে, ফুলছড়ি উপজেলার সাংবাদিক এবং ওখানকার প্রেসক্লাব এর কথা বলে ঐ দালাল হাবিব প্রতি মাসে এই ভন্ড ফকিরের নিকট থেকে মাসোহারা নিতো। এ বিষয়টি আরো পরিস্কার হলো- যখন ঐ রাতে দালাল হাবিবের ফেসবুক পেজে ভন্ড ফকিরকে গ্রাম্য কবিরাজ বলে উপস্থাপন করে। ঐ ফেসবুক পেজে সে সম্পুর্ মিথ্যাভাবে উল্লেখ করেছে, সাংবাদিকরা নাকি ঐ ভন্ড ফকিরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এসব বিষয়ে ভন্ড ফকির জাফিরুলের ঐ দালালের বিরুদ্ধে আইসিটি এবং ভন্ড ঐ ফকিরের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!