হোম » প্রধান সংবাদ » সুনামগঞ্জে রোদ ও ভ্যাপসা গরম বাড়লেও কমছেনা বন্যার পানি : প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা

সুনামগঞ্জে রোদ ও ভ্যাপসা গরম বাড়লেও কমছেনা বন্যার পানি : প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে গত ৩ দিনে রোদ ও ভ্যাপসা গরম বাড়লেও কমছেনা বন্যার পানি। পাহাড়ি ঢল সামান্য কমলেও দুুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। জেলার ৮ উপজেলা ও ৪ টি পৌরসভার কয়েক লক্ষ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। জেলা সদরের পানি কিছুটা কমলেও বিভিন্ন উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়া অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার,দিরাই,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ,ধর্মপাশা ও ছাতক এই ৮ উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। কিছু কিছু ডুবন্ত সড়ক বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে ভেসে উঠছে।

সবকটি উপজেলায় যোগাযোগের নৌকাই একমাত্র ভরসা। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ভোগান্তির কারণে জনদূর্ভোগ আরো বেড়েই চলেছে। জেলার হাওর পাড়ের গ্রামগুলোতে প্রচন্ড ঢেউয়ের ধাক্কায় ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যাচ্ছে। দুর্গম অনেক স্থানে ত্রাণ সামগ্রী না পৌছার কারণে মানুষ কষ্টে আছে। ঘরে পানি উঠায় চুলা ও জ্বালাতে পারছে না অনেকে। জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মানুষ ঘরবাড়ি গবাদিপশু ফেলে অপেক্ষাকৃত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলেও তাদের গবাদিপশু অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় চুরির আশংকা রয়েছে।

গো খাদ্যের সংকটও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।  সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান জানান,সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের চেরাপঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম হলে আমাদের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। মঙ্গলবার দিনব্যপী জেলার সংসদ সদস্যগনের মধ্যে ড.জয়াসেন গুপ্তা,জননেতা এম মুহিবুর রহমান মানিক,মোয়াজ্জেম হোসেন রতন,এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুহেল আহমুদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাশেদ ইকবাল চৌধুরীসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন উপদ্রুত এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দিনভর দুর্গতদের মাঝে খিচুড়ি, চাল, ডালসহ শুকনো খাবার,নগদ টাকা ও পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট বিতরন করেছেন। জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান,জেলায় এ পর্যন্ত ৩৫৭ টি আশ্রয়কেন্দ্র ও সর্বশেষ ৮৬৫মে: টন চাল ও নগদ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!