হোম » প্রধান সংবাদ » নবীনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধকোটি টাকার মালামাল ভস্মিভূত!

নবীনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধকোটি টাকার মালামাল ভস্মিভূত!

সোহেল মিয়া, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন প্রত্যদর্শীরা।বাজারের সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে জানা জানায়,গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নবীনগর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মনির হোসেন এর তিন তলা ভবনের নিচতলার মোহন হার্ডওয়ারের দোকানে ওই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে কি কারণে এমন অগ্নিকাণ্ড তা এখনো স্পষ্ট না হলেও তাদের ধারণা ধূপের আগুন থেকে এমন অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে,দোকানের ভিতরে রং ও স্প্রিট জাতীয় দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান দোকান গ্রাস করে ফেললে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।ফলে আশপাশের শত শত মানুষ জমায়েত হয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেউ তেমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে সবার মাঝে এ নিয়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।এরই মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা কামনা করেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বীরুচিত সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনতা বুড়ি নদীতে ড্রেজারে ব্যবহৃত ইঞ্জিন লাগিয়ে তার পাইপ দিয়ে পানি মেরে,একজন পৌর কাউন্সিলর অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস এনে প্রয়োগ করলে আগুনের লেলিহান কমতে শুরু করে। এমন সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে হাজির হয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী অগ্নিকাণ্ডে ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থানরত গ্রামীণ ফোনের স্বত্তাধিকারী শাকিল রেজা বলেন,আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে শুধু মাত্র স্থানীয় কিছু যুবক তাদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে গেছেন।  যা সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  আমি সামনে থেকে তাদের সাথে কাজ করেছি এবং দেখেছি।
অগ্নিকান্ডের বিষয়ে ভবনের মালিক ও বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ মনির হোসেন বলেন,আমার বিল্ডিং এর নিচ তলার মোহন হার্ডওয়্যার দোকানটিতে সন্ধ্যায় ধুপ বাতি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনে ওই দোকানে থাকা অনেক মালামাল পুরে ছাই হয়ে গেছে।  সব মিলিয়ে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ অর্ধকোটি হতে পারে।
নবীনগরে এমন অগ্নিকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। তাদের পরিষ্কার জিজ্ঞাসা প্রায় এক বছর হয়ে গেলো চার কোটি টাকায় ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে তারপরও কেন সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল ও উপকরণ দিয়ে সেটা কার্যকর হচ্ছে না এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ জনপ্রতিনিধি ও প্রসাশনের বরাবর।এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম বলেন,আশা করছি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ফায়ার সার্ভিস এর কার্যক্রম চালু করতে পারবো।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!