হোম » প্রধান সংবাদ »  সুন্দরবন আন্ধামানিক ফরেষ্ট ক্যাম্পের পুকুরপাড় থেকে বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার 

 সুন্দরবন আন্ধামানিক ফরেষ্ট ক্যাম্পের পুকুরপাড় থেকে বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার 

শরণখোলা প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের আন্ধামানিক ফরেষ্ট ক্যাম্পের পুকুরপাড় থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। মৃত্যু বাঘটির পেছনের দুই পা বিচ্ছিন্ন, সামনের একটি পায়ে পচন ধরেছিল। এর আগে ২০২০ সালের ৩ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের কাছ থেকে আরেকটি বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল বন বিভাগ। ওই বাঘটির এক পা বিচ্ছিন্ন ছিল। গত বছরের ২০আগস্টে আরেকটি বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে সেটির গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।
অসুস্থতার কারনে বাঘটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে বনবিভাগ প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে। তবে বাঘটির মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানতে প্রাণি সম্পদ বিভাগ শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করে তা ঢাকা পরীক্ষাগারে (ফরেনসিক) পাঠিয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে সাংবাদিকদের কাছে সুন্দরবনে বাঘের মৃত্যুর খবর আসলেও তা বনবিভাগ নিশ্চিত করে কিছুই বলছিল না। রোববার রাতে বনবিভাগ স্থানীয় সাংবাদিকদের বাঘের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে। মৃত বাঘটি একটি বাঘিনী। বাঘিনীর উচ্চতা তিন ফুট এবং লম্বায় লেজসহ সাত ফুট বয়স হবে ১৪ থেকে ১৫ বছর।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুন বলেন, পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের আন্ধারমানিক ফরেস্ট ক্যাম্পের আশেপাশে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঘোরাঘুরি করছিল। বাঘের ঘোরাঘুরি দেখে ক্যাম্পের কর্মকর্তা কর্মচারিরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠেন। তারা প্রাণ ভয়ে ক্যাম্প থেকে বাইরে কোথাও বের পর্যন্ত হননি। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে ক্যাম্পের পাশের পুকুরপাড়ে বাঘটিকে তারা দেখতে পান।
অনেক সময় পার হলেও বাঘটির স্থান পরিবর্তন না দেখে ক্যাম্পের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তখন তারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে দূর থেকে দেখেন বাঘটির পাশে মাছির আনা গোনা করছে। পরে তারা কাছে গিয়ে দেখেন বাঘটি মরে পড়ে আছে। ক্যাম্পের সদস্যরা বিষয়টি জানালে আমি প্রাণি সম্পদ বিভাগকে সাথে নিয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে প্রাণি সম্পদ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাঘটির পেছন ও সামনের পায়ে ক্ষত দেখতে পান। পেছনের বাম পায়ের নিচের অংশ (থাবা) নেই। বাঘটি তার বিচরণ এলাকায় অন্য কোন প্রাণির সাথে বিবাদে জড়িয়ে মারামারি করে আহত হয়। শারীরিক অসুস্থার কারনে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।
বাঘটির মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানতে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হেেয়েছে। পরে বাঘটিকে আন্ধারমানিক এলাকায় মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি বাঘিনী। তার বয়স হবে আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর। বাঘিনীর উচ্চতা তিন ফুট এবং লম্বায় লেজসহ সাত ফুট। বাঘ সাধারণ ১৬ থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!