হোম » প্রধান সংবাদ » স্বপ্ন দেখি সমাজ পরিবর্তনের-নতুন উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার

স্বপ্ন দেখি সমাজ পরিবর্তনের-নতুন উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার

আবু জাহের, শেরপুর (বগুড়া) থেকে : শিরিন আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য মাস্টার্স পাশ করে বিসিএস সহ
অন্যান্য চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন । এরই মাঝে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও যখন করোনার ভয়াল থাবা আঘাত হানে। অন্যদিকে বেকারত্বের ভয়াল থাবা বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম একটি অন্তরায়। করোনা পরবর্তী এ পরিস্থিতি বাংলাদেশে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা খুব সহজেই অনুমেয়। যার প্রভাব শহর থেকে গ্রামে সর্বত্রই। কৃষি নির্ভর সম্ভাবনাময় এই সোনার বাংলায় সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামের যুবকদের এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে স্বপ্ন দেখি সমাজ পরিবর্তনের তাই গ্রামে চলে আসে।

এলাকার মানুষের জন্য অবসরের এই সময়টুকু কাজে লাগাতে চান। করোনা কালীন সময়ে, তার অদম্য ইচ্ছা এবং সাহসী প্রচেস্টায় একমাসের মধ্যে এলাকার ২৫ জন আগ্রহী শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীর সমন্বয়ে গড়ে তোলেন “উচরং সম্মিলিত যুব পরিষদ”। যাদের প্রত্যেককে তিনি প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহায়তায়, প্রানিসম্পদের একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনব্যাপী উভয়পক্ষের স্বেচ্ছাশ্রমে উপজেলা প্রাণী সম্পদ হলরুমে উপজেলা উপ-সহকারী প্রানিসম্পদ অফিসার লাভলু এবং লাইভস্টক ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট তাজমুল ইসলামের আয়োজন আধুনিক প্রযুক্তিতে গবাদিপ্রাণী লালন পালন বিষয়ে একদিনের প্রশিক্ষণ করান উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.আমীর হামজা এবং লাইভস্টক এক্সটেনশন অফিসার সানজিদা হক।

প্রশিক্ষন শেষে, প্রশিক্ষনার্থীদের প্রত্যেককে একটি করে গবাদিপশু লালন-পালন বিষয়ক গাইড বই উপহার দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার বলেন, ‘ উচরং সম্মিলিত যুব পরিষদ’ ও ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মিলিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে অংশ নিয়েছে আমার গ্রামের শিক্ষিত প্রাণবন্ত তরুণ ছেলে-মেয়েরা চাকরির আশায়
বসে না থেকে নিজের ভিটে-মাটিতেই স্বল্প পুঁজি দিয়ে ছোট্ট খামার স্থাপনের মাধ্যমে যেন আতিœর্ভরশীল হতে পারে। সেই স্বপ্নটুকুই আমাদের মাঝে আরো শক্তিশালি হয়েছে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.আমীর হামজা প্রশিক্ষনের
মাধ্যমে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.আমীর হামজা বলেন, শিরিন আক্তারের মত একজন উদ্যোমী, আত্ববিশ্বাসী একজন মানুষের প্রচেস্টায় নিজেও দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে পেরে নিজেকেও ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, দুই মাস আগে শেরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে আসেন তাদের নিজেদের খামার রেজিষ্ট্রেশনের জন্য। অফিসে এসে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.আমীর হামজাকে পরিচয় হয়ে বিষয়গুলো বলে।

 

এবং তাদের এলাকার অনেক মানুষ গবাদিপ্রাণী লালন-পালন করলে-ও, তাদের মধ্যে অনেকেরই এ বিষয়ে
অসচেতন। তখন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.আমীর হামজা নিজে বিনা পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদেরকে সকল প্রশিক্ষন প্রদান করবে বলে আশ্বাস দিলে তারা কার্যক্রম শুরু করে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!