
খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় মাহেন্দ্র চালক শেখ ওহিদুর রহমান রিপনকে হত্যা দায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে খুলনা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম আশিকুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণার করেন আদালতের বিচারক।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা- কিশোরগঞ্জ জেলার ইলচ্চা বাজার সাদির চর গ্রামের ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নুর ইসলাম, একই এলাকার হরিদাসের ছেলে জনি দাস, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার ফল সমস্যা বাজার এলাকার আব্দুর রউফ সিকদারের ছেলে মো. রনি শিকদার ও বটিয়াঘাটা উপজেলা আইয়ুব আলী মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ মাসুদ রানা মোল্লা। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী সাব্বির আহমেদ জানান, ওহিদুর রহমান রিপন একজন মাহেন্দ্র চালক। সে সাতক্ষীরা জেলার লাবশা এলাকার শেখ তৌহিদুর রহমানের ছেলে। ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি সকালে গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে বাড়ি ফিরে না আসলে পরিবারের মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়ে। পরেরদিন নিহতের ছোটভাই জানতে পারে লবনচরা থানাধীন ডা. দিপু সাহেব নামে একব্যক্তির জমিতে একজন মাহেন্দ্র চালকের লাশ পাওয়া গেছে। সংবাদ পেয়ে নিহতের ভাই খুলনায় এসে তার লাশ শনাক্ত করেন। লাশ দাফন শেষে তিনি জানতে পারেন। গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থেকে মাহেন্দ্রসহ চারজন আটক হয়েছে। পরের দিন তিনি লবনচরা থানায় এসে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
আইনজীবী সাব্বির আহমেদ ঘটনার বিবরণ দিয়ে আরও বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উল্লেখিত আসামিরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহেন্দ্র ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে খুলনায় আসার জন্য সাত শত টাকা ভাড়ার চুক্তিতে রওনা হয়। রাত নয়টার দিকে নগরীর লবনচরা থানাধীন ডা. দিপু সাহেবের জমির নিকট পৌছালে আসামি মাসুদ ও রনি রশি দিয়ে ড্রাইভারের শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। শ্বাসরোধে তার মৃত্যু না হলে নুর ইসলাম রিপনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা মাহেন্দ্রা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে গোপালগঞ্জ এলাকার কাশিয়ানি পুলিশের চেকপোষ্টে গিয়ে তারা আটক হয়। একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা পুলিশের নিকট স্বীকার করে। উল্লেখিত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর মামালার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক মীর আতাহার আলী চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা চলাকালে ১৫ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন
জামালপুরে আইনজীবী স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
শেরপুরে ভাড়াটিয়াকে আটকে রেখে অন্য ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২: রাজশাহী নগরীতে আ’লীগ নেতাকর্মী-সহ গ্রেফতার ১৭