হোম » অপরাধ-দুর্নীতি » অনিয়ম দূর্নীতিতে নিমজ্জিত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়েই গাছ কর্তন জনমনে ক্ষোভ প্রশাসন নিরব 

অনিয়ম দূর্নীতিতে নিমজ্জিত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়েই গাছ কর্তন জনমনে ক্ষোভ প্রশাসন নিরব 

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি: জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ের গাছ কেটে সাবাড় করেছে । গতকাল মঙ্গলবার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গাছ কেটে দোকান ঘর নির্মাণ করছে মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়মে জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি। ২০০৩ সালের ১৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশ্যে নিলামে গাছ কাটতে হয়। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে এসব গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।  স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে প্রশাসনের অনুমতি উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে নিলাম না করেই  বিদ্যালয়ের ৩টি পুরোনো গাছ কেটে ফেলেছেন। তাঁরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে  নতুন করে গাছ
কেটে দোকান ঘর নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে স্কুলের গেটের সামনে পুরনো অফিস ভেঙ্গে সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশবান্ধব গাছ কেটে দোকান ঘর নির্মাণ করার জন্য  অগ্রীম দোকান প্রতি ৬০হাজার টাকা গ্রহন করে  নিজের তত্তাবধানে মার্কেট নির্মাণ করছেন।এক্ষেত্রে  ইচ্ছেমতো নিজের পছন্দের লোকদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে।ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় কেউ টু শব্দটিও করে না। এতে স্কুলশিক্ষক ও
এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়ম দূর্নীতি কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।  একের পর এক অনিয়ম আর দূর্নীতিতে গ্রাস করছে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি এমনটিই মনে করেন এলাকাবাসী।পুরাতন ঐতিহ্য হারিয়ে দূর্নীতির আঁকড়ায় পরিনত হয়েছে মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি।  নাম প্রকাশ না করতে অনৈচ্ছিক এক সূধীব্যক্তি বলেন, মনোহরপুর
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজে মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে সরকারি নিয়ম না মেনেই পুরনো অফিস ভেঙে পরিবেশবান্ধব গাছ কেটে, নিয়োগ বানিজ্য, জেলা পরিষদের ২লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নতুন ইট ব্যবহার না করে স্কুলের পুরনো ইট দিয়ে খেলার মাঠের  বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মসহ নানা ধরনের অনিয়ম করেছেন। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে  চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে
করেন মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোন নিয়মই মানা হয় না। বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান গাছ কাটলে তা বেআইনি হবে।এছাড়াও তিনি বলেন রশিদ না দিয়েই  নির্ধারিত ফি ছাড়াও নিয়ে স্কুলে অষ্টম শ্রেণির পাশের গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়।   মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ খালেক গাছ কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, বন মন্ত্রণালয়ের আইনানুসারে গাছ কাটা অনেক লম্বা প্রক্রিয়া । আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটতে নিষেধ করেছি তিনি শোনেননি। তবে আমরা গাছ কেটে স্কুলের কাজে ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান । এছাড়াও বিদ্যালয়ের জেলা পরিষদের বরাদ্দ
থাকলেও  পুরনো ইট দিয়ে মাঠের বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান আমরা প্রাচীর পরিমানে একটু বেশী করাই স্কুলের পুরনো ইট দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। তোমরা তো সবই বোঝ আমি কিছু বলতে চাই না। এ ব্যাপারে মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রসূলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।  জীবননগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দ্বীনেশ চন্দ্র
পাল বলেন, স্কুলের গাছ কেটে মার্কেট নিমার্ণের জন্য ওই স্কুলের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি এবং বিষয়টি কিছুই জানেন না বলেও  জানান তিনি।গাছ কাটা অবশ্যই অপরাধ।  তিনি আরোও জানান সরকারি নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করেনি স্কুল ম্যানেজিং কমিটি। স্কুলের মার্কেটের প্রয়োজন আছে কি নেই। মার্কেটের কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হবে কি হবে না এ সব দেখার দায়িত্ব শিক্ষা বিভাগেরই। এ বিষয়ে অবশ্যই তদন্তপুর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!