হোম » সারাদেশ » ডোমারে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, আশঙ্কায় কৃষকেরা

ডোমারে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, আশঙ্কায় কৃষকেরা

মোঃরিমন চৌধুরী, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ আর কয়েকদিন পরেই শুরু হবে চলতি মৌসুমে আমন ধান সংগ্রহের ধুম। কিন্তু শেষ মূহুর্তে ক্ষেতে ব্যপক হারে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। এতে আমন ফসল নিয়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। উত্তরের জেলা নীফামারীর ডোমার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান ক্ষেতে নানান রোগ বালাই ও পোকা আক্রমণ করছে। কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষায় আধাপাকা ধান ক্ষেতে কীটনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ পোকা নিধন ও রোগবালাই দূরীকরণে কৃষকদের দিচ্ছে নানান পরামর্শ।
সরজমিনে দেখা যায়, ডোমার হরিনচড়া ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের কৃষক অনিল চন্দ্র রায় দুই একর ৩৩ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তার প্রতিটি ক্ষেতেই পোকা আক্রমণ করেছে। পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হচ্ছে। তার চাষাবাদের প্রতি বিঘায় (৩৩ শতাংশ) ফলন দুই হতে তিন মন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন। পৌরসভা চিকনমাটি এলাকার কৃষক আশিকুর রহমানের এক একর ৬৬শতাংশ ধানের মধ্যে ১৬শতাংশ জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। তিনিও অন্যান্য বছরের তুলনায় ধান কম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের আনারুল ইসলাম বলেন, কারেন পোকার আক্রমণে আমার ১৬শতাংশ জমির ধান বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। সোনারায় ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনের ৩৩ শতাংশ,পাংঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের মশিয়ার রহমানের ৩৩শতাংশ জমিতে কারেন পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণে কৃষকরা সবাই এবারে ধান কম হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগ উপজেলার ধান চাষীদের ফসল রক্ষায় পরামর্শ দিচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি ধান ক্ষেতে দুই থেকে আড়াই হাত পরপর সিথি কেটে বা ফাঁকা করে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। পোকার আক্রমণ করে নাই এমন ক্ষেতেও কীটনাশক স্প্রে করলে ওই ক্ষেতে পোকা আক্রমণ করতে পারবে না। পোকার আক্রমণে ফসলের ক্ষতির প্রভাব তেমন একটা পড়বে না। কৃষকদের আমরা যে নিয়মে জমিতে ধান চাষ করতে বলি, সেই নিয়মে তারা চাষ করলে, পোকা আক্রমণের হাত থেকে ফসল রক্ষা পেতো।
তা ছাড়া জমিতে বারবার একই ধান চাষাবাদ করলে উৎপাদন কম ও নানান রকম রোগ বালাই দেখা দেয়। আমরা কৃষকদের অধিক ফলন ও আগাম ফসল ঘরে তুলতে নতুন জাতের বিনা ধান-১৭ ও বিনা-২২ ধান চাষাবাদ করার পরামর্শ দিয়ে আসছি। এবার উপজেলায় ১৮হাজার ৪শত ৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে উফশী জাত ১৬হাজার ১৯০হেক্টর, স্থানীয় ধানজাত ৪৫হেক্টর ও হাইব্রীড ২হাজার দুইশত হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!