
মারুফ বিল্লাহ রুবেল , শ্যামনগরঃ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার হাইবাতপুর মোড়ে অবস্থিত সুন্দরবন এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় লাইসেন্স বিহীন এই এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান সিরাজ তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করবেন বলে হুমকি প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বড়কুপোট গ্ৰামের মৃত, মোকবুল হোসেন মালীর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৬৪) জরায়ু সমস্যা জড়িত কারণে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেই দিন বিকেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এনেস্থেশিয়া ডাক্তার বাদ দিয়ে একজন হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে ডাঃ সুব্রত কুমার মন্ডল কে দিয়ে অপারেশন সম্পন্ন করে। ডাঃ সুব্রত কুমার মন্ডল রোগীকে অপারেশন করে তার কর্মসংস্থান খুলনা চলে যান। কিন্তু অপারেশনের পর থেকে রাবেয়া খাতুনের অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যায়। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১২ টার সময় সুন্দরবন এ্যাপোলো হাসপাতালেই রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর পর তার স্বজনরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কে বিভিন্ন অভিযোগ দিতে থাকে। কতৃপক্ষ বিয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে।এক পর্যায়ে তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। মৃত বৃদ্ধার স্বজনরা জটিলতা এড়িয়ে তাদের কথা মেনে নেয়। তারপর সন্ধ্যার পর একটি বেসরকারি এম্বুলেন্স যোগে মৃত বৃদ্ধা কে গোপনে বাড়িতে পাঠানো হয়। এ সংবাদ জানাজানি হলে সাংবাদিকরা তথ্য অনুসন্ধানে সন্ধ্যার পর সুন্দরবন এ্যাপোলো হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে উক্ত হাসপাতালে পরিচালক শাহজান সিরাজ সাংবাদিকদের কোন প্রকার তথ্য না দিয়ে বিভিন্ন রকম অবান্তর কথাবার্তা বলে। একপর্যায়ে শাহজাহান সিরাজ সাংবাদিকদের কাছে একটি রোগী মৃত্যু হয়েছে স্বীকার করলেও তথ্য গোপন করে বলেন রোগীটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং ডাঃ সুব্রত কুমার মন্ডল এর আত্মীয়। তথ্য অনুসন্ধান করতে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গেলে সেখানে মেলে ভিন্ন চিত্র। ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান সিরাজের কথার কোন মিল পাওয়া যায়নি। মারা গিয়েছে একজন মুসলিম বৃদ্ধা অথচ তিনি তথ্য গোপন করে বানিয়ে দিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলা।
হাসপাতালটির পরিচালক শাহজাহান সিরাজ কোন ডাক্তার নয়। কোন ডিগ্রি না থাকার পরেও কিভাবে নামের আগে ডাক্তার, কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও থেরাপি বিভাগ কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল- ঢাকা লেখেন ? এ যেন মনে হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় শাহেদ করিম। ইতিমধ্যে তিনি তাহার অপকর্ম ঢাকতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবাদ দিতে সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। উক্ত ঘটনায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সুশীল সমাজের মানুষ স্বাস্থ্যসেবার নামে মানুষকে প্রতারিত করার এই প্রতিষ্ঠান ও ডাক্তার না হয়েও নামের পাশে বিভিন্ন পদ-পদবী ব্যবহারকারী ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আরও পড়ুন
জামালপুরে অস্তিত্বহীন রাইসমিলের নামে সরকারি বরাদ্দের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মেলান্দহে ৪ লাখ টাকার হেরোইনসহ ধরা পড়ল স্বামী-স্ত্রী
ডিমলায় একদিনে পাঁচ খাতে সরকারি সহায়তা বিতরণের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য