
মোঃআবদুল মুনাফ পিন্টু: ফেনীতে স্বামী হারুন অর রশীদ, তার আপন বোন চাঁনধন আক্তার , ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান ও ভাগিনা সালমান এম রহমানদ্বয়ের যোগসাজশ ইন্ধনে যৌতুক আদায়ে প্রতিনিয়ত মারধর, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি, টাকা না দিলে তালাকের হুমকি, চাকুরী খেয়ে ফেলবে, সংসার ভেঙ্গে দিবে বলে নানারকম অমানুষিক শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ইয়াছমিন আক্তার পমি । গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়। উক্ত মামলায় প্রধান আসামী স্বামী হারুন অর রশীদকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বাকি তিনজন পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায, গত ২৩ জুন ২০০৮ সালে হারুন অর রশিদ পিতা আবদুল গোফরান, পূর্ববাক মারা পাটোয়ারি বাড়ি, খন্ডলহাই, পরশুরাম ফেনী এর সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ব হন ইয়াছমিন আক্তার পমি ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে। নতুন বরের সন্মান রক্ষার্থে একটি মটর সাইকেল ১লাখ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণ অলংকার প্রায় ৪ লাখ টাকা, ফার্ণিচার বাবত ১লাখ ৩০ হাজার ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ১৬ লাখ টাকা আদায় করেন হারুন তাদের সংসার জীবনে। সংসারে তিনটি সন্তানের কথা বিবেচনায় স্বামীর অত্যাচার সইতে না পরে বিভিন্ন ধাপে উক্ত টাকাগুলো দিতে বাধ্য হন। বাদী ইয়াছমিন আক্তার পমি দাগনভূঞা একটি ইলেকট্রনিক সিটি (আকাই) কোম্পানিতে চাকুরী করেন। অফিসের লোক প্রয়োজন থাকাতে তার ননদের স্বামী ৩ নং আসামী মিজানুর রহমানকে (৪৮) অফিস সহকারির চাকুরি দেন।

পরবর্তীতে ইয়াছমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করে তার কর্মস্থলে পাঠায়। অফিসের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ তদন্ত করে মিথ্যা প্রমানিত হলে মিজানুর রহমান চাকুরীচ্যুত হন। এতে ইয়াছমিনের স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ১ নং আসামী হারুন অর রশিদ (দাগনভূঞা সিঙ্গার শো রুমের ম্যানেজার), বোন চাঁনধন আক্তার (৩৭), মিজানুর রহমান (৪৮) ও সালমান এম রহমান (২১)সহ বাদির বসতবাড়ি ফেনী আলোকদিয়া ৬ নং সদর কালিদাহ ইউনিয়ন, ফেনীতে গিয়ে পূর্বের ন্যায় গত ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮ ঘটিকায় যৌতুক দাবি করেন। অন্যথায় তালাক দিবেন বলে স্ত্রীকে হুমকি, মারধর, ননদ চুলের মুঠি ধরে কিলঘুষি, কানের ছিদ্র করা, বেল্ট দিয়ে পিটানোসহ মারাত্নক জখমূ করেন চারজন। ইয়াছমিন আক্তার ফেনী সদর হাসপাতাল চিকিৎসা গ্রহন করেন এবং আইনের আশ্রয় নেন।
তিনি আরোও জানান উস্কানিদাতা তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা অর্থলোভী, তার ভাইদের নারী কেলেঙ্কারি বিষয়ে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তার মেঝো জ্যা রিনা আক্তার স্বামীর বিরুদ্ধে করা মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে। ইয়াছমিন এর বিয়ের পর থেকে তার স্বামী হারুন চাকুরীর কথা, ব্যবসা বানিজ্য করাসহ নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে টাকার জন্য। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে মিথ্যার আশ্রয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা নগদ হাতিয়ে নেয়। ইয়াছমিন আক্তার পমির পিতা কাজি নজরুল ইসলাম মেয়ের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে মেয়ে ইয়াছমিনকে ৬ শতক জমি লিখে দেন মেয়ের নামে। সে জমিটিও স্বামী হারুনকে হেফা দলিল রেজিষ্ট্রি করে দিতে বাধ্য হন।
বাদি ইয়াছমিন আক্তার পমি স্বামী হারুনের অমানুষিক নির্যাতন ও অর্থ হারিয়ে সর্বসান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি আইনের সু্বিচার ও পলাতকদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ১ নং আসামীকে গ্রেফতার করেন এবং বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন
জামালপুরে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার
পীরগঞ্জের রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দায়িত্ব হস্তান্তরে অনিয়মের অভিযোগ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মহিলা দলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত