হোম » সারাদেশ » পীরগঞ্জের রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দায়িত্ব হস্তান্তরে অনিয়মের অভিযোগ

পীরগঞ্জের রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দায়িত্ব হস্তান্তরে অনিয়মের অভিযোগ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর মাহতাবিয়া দ্বি-মুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দায়িত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে বিদায়ী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন, স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে ।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ৮ জুন রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। বিধি অনুযায়ী, তিনি অবসরে যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শিক্ষক আশরাফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে বিশেষ উদ্দেশ্যে ওই বিদ্যালয়ের জুনিয়র কম্পিউটার শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানকে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব দিয়ে তিনি বিদ্যালয় থেকে প্রস্তান করেন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকার অবিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
একটি সুত্র জানায় , প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত জুনিয়র শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ আমলি আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় তিনি পুর্বে কারাবাসও করেছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ কওে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমারই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল। অথচ সমস্ত নিয়মকানুন ভেঙে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একজন জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’
বিদায়ী শিক্ষক আবেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবসরে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) সরঞ্জাম রাতের আঁধারে খুলে নিয়ে যাওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবেদুল ইসলাম সোলার সরঞ্জাম খুলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মালামাল আমি খুলে নিয়ে এসেছি ঠিকই, কিন্তু তা আমার বাড়িতে রাখিনি।’
এ প্রসঙ্গে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র শিক্ষক কর্মরত থাকতে একজন জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনিয়ম ও মালামাল সায়ানোর বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!