
বাগেরহাটে থেকে ঘুরে এসে এনামুল হক
বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার এ বি গজালিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে। প্রায় ৫ থেকে ৬ শত পরিবারের বসবাস থাকা সত্ত্বেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও পাথরের স্তর থাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ বৃষ্টির মৌসুমে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি পুকুরে পানি সংরক্ষণ করে, যা সারা বছর পানীয় জলের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই পানি সব সময় নিরাপদ থাকে না, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। উপজেলার এবি গজালিয়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা
মোঃ হুমায়ুন কবির তালুকদার জানান, “আমাদের বাড়িতে আটটি পরিবার থাকলেও বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। রাজনৈতিক প্রভাব বা ঘুষ ছাড়া কোনো সুযোগ পাওয়া যায় না।”
আরেক বাসিন্দা শাহিনুর বেগম বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, দূর থেকে পানি আনতে কষ্ট হয়। টাকা না থাকলে অনেকে বাধ্য হয়ে নোংরা পানি খায়, এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
স্থানীয়দের দাবি, বিশুদ্ধ পানির একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হলো প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাটখালি সরকারি পুকুর। সেখান থেকে পানি আনতে মোটরসাইকেল বা ভ্যানে ৫০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হয়, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য বড় বোঝা।
রিপন হাওলাদার নামের এক বাসিন্দা বলেন, “যদি সরকারিভাবে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট বা ট্যাংক স্থাপন করা হতো, তাহলে আমাদের এই কষ্ট করতে হতো না।” তিনি আরও জানান, বিশুদ্ধ পানির অভাবে এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগে মানুষ ভুগছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং কিছু এনজিও সংস্থা সীমিত আকারে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানির বাইরে রয়ে গেছে।

দাবি ও প্রত্যাশা:
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান হিসেবে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট, বড় আকারের সংরক্ষণ ট্যাংক অথবা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হোক। তাদের মতে, বিশুদ্ধ পানি পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার, যা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
দক্ষিণ অঞ্চলের সুন্দরবন তথা বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল গুলোর মধ্যে এ বি গজালিয়া গ্রামের এই চিত্র গ্রামীণ পানি সংকটের একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানবিক দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে মোড়লগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বিশুদ্ধ পানির সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি উপজেলায় যোগদান করার পরে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য চেষ্টা করেছি। এলাকায় লবণাক্ততা বেশি হওয়ার কারণে মিষ্টি পানির কোন স্তর পাওয়া যায় না। বর্তমানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বেশ কয়েকটি এনজিওর মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির প্লান্ট স্থাপন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পানির টাংক বরাদ্দ দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংকট দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান বর্তমান সরকার প্রতিটি মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক