হোম » সারাদেশ » পাথরঘাটায় পানি সরানো নিয়ে হাতাহাতি, শিক্ষকদের হাতে ব্যবসায়ী জখম

পাথরঘাটায় পানি সরানো নিয়ে হাতাহাতি, শিক্ষকদের হাতে ব্যবসায়ী জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনার পাথরঘাটায় কলেজ মাঠের পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরোধ চরমে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম রেজা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শামসুল হক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত রেজাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা কলেজ মাঠে বৃষ্টির পানি জমে পড়ার কারণে তা পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নুর ইসলাম ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শামসুল আলমের জমির উপর দিয়ে নির্মিত ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশন করা হতো। তবে কলেজ মাঠের জমি উঁচু হওয়ায় ও এর আশপাশের জমি নিচু হওয়ায় আশপাশের এলাকা প্রায়ই জলাবদ্ধতায় পড়ে। এ নিয়ে কলেজের আশপাশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন।

এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ বছর ধরে বিশাল কলেজ মাঠের পানি মাঠের দক্ষিণ দিক নেমে আসছে। এতে তাদের বসতবাড়ি অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতা থাকে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষক বিষয়টি কোনোভাবেই গুরুত্ব দিচ্ছে না।

বিরোধের সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শামসুল হকের সঙ্গে কলেজের শিক্ষক জাহিদ হাসান ও বেলালের কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তারা শামসুল হককে লাঞ্ছিত করেন। প্রতিবাদ করতে গেলে ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম রেজার উপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে নাক ফাটিয়ে দেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা।

মারধরের শিকার মাইনুল ইসলাম রেজার স্ত্রী জানান, আমার স্বামীকে অন্যায় ভাবে কলেজের বেলাল হোসেন ও জাহিদ হাসান স্যার মেরে নাকের হাড় ভেঙে দিয়েছে। তিনি জানান, অনেক দিন আগে বেলাল হোসেন কলেজের ভিতরে প্রাইভেট পড়ানোর সময় এক ছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় স্ত্রীর কাছে ধরা পরে। যা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ হয়। তখন থেকেই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে লেগে আছে।

পাথরঘাটা কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক শিক্ষক জানান, বেলালের বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তারা স্বৈরাচার সরকারের আমলে তাদের ছাত্র ছায়ায় ছিল। এখন নব্য বিএনপির অনুসারী হয়ে সর্বত্র প্রভাব বিস্তার করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জাহিদুর রহমানের মুঠোফোন কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি, তবে বেলাল হোসেনকে ফোন দিলে তিনি একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বলে জানিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেয়।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা কলেজের অধ্যক্ষ মহসিন কবিরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান ঘটনা আমি শুনেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে জানিয়েছি, এখন পর্যন্ত কোন ধরনের লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!