
সত্তরের পরবর্তী সময়ে ছিটকিতলায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তারপর থেকে খরস্রোতা তুলসীগঙ্গা তার রূপ-যৌবন হারাতে বসে। নদীর পানির প্রবাহ না থাকায় কচুরিপানার স্তুপে পরিণত হয়েছে। পানিতে দূর্গন্ধ হওয়ায় মশা মাছির উপদ্রব বেড়েছে। বর্তমানে নদীর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য হারিয়ে গেছে। আর এখন মৃতপ্রায় অবস্থা। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে মৃতপ্রায় অবস্থা। তুলসীগঙ্গা নদীর পাশে চককুতুবে রেগুলেটর থাকলেও অপরপাশে বন্ধ রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় পানি দূর্গন্ধ হয়ে পড়েছে। জলজপ্রাণীও বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। তবে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার জন্য ছিটকিতলায় গতিরোধক বাঁধটি সরিয়ে সেখানে রেগুলেটর নির্মাণ করার দাবী স্থানীয়দের। এতে ছোট যমুনার সাথে সংযোগ হলে বর্ষা মৌসুমে পানি দিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখা সম্ভব। নদী তার প্রাণ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি আবারও কর্মমুখী হয়ে উঠবে।
ভবানীপুর গ্রামের নদী পাড়ের বাসিন্দা সদিকুর রহমান ও আহসান আলী বলেন, ফসল চাষাবাদ ও বিভিন্ন সুবিধার জন্য নদী খনন করা হয়। এছাড়া নদীতে মাছ ধরা, গোসল করা হবে এবং সাংসারিক প্রয়োজন মেটানো হবে। কিন্তু সে সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। নদীতে কচুরিপানার স্তুপ হয়েছে। নদীর পানি এতোটাই দূর্গন্ধ যে মশা-মাছির উপদ্রুব। মোট কথা নদীর যে প্রয়োজন ছিল সে প্রয়োজন আমরা অনুভব করছিনা।
নওগাঁর সমাজসেবক এমএম রাসেল বলেন- এক সময় এ তুলসীগঙ্গা নদীতে বড় বড় পালতোলা নৌকা চলতো। পাবনা ও জয়পুরহাট থেকে বণিকেরা ব্যবসার জন্য ধান, পাট ও বিভিন্ন ফসল নিয়ে আসতো। তবে সত্তরের দশকে ছিটকিতলায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তারপর থেকে খরস্রোতা তুলসীগঙ্গা তার রূপ-যৌবন হারাতে বসে। এছাড়া নদীর প্রস্থতা বড় ছিল। এখন দখল আর দুষণে সরু হয়ে আসছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ছিটকিতলায় রেগুলেটর নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নওগাঁ’র সাধারণ সম্পাদক নাইচ পারভীন বলেন, এক সময় নদীকে কেন্দ্র করে নগর ও সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সেইসব নদীর অস্থিত্ব এখনো হারানো পথে। ময়লা ও আর্বজনা নদীতে ফেলায় পানি দুষণ হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় নদী ছোট হয়ে আসছে। মোট কথা মানুষকে সচেতন হতে হবে। নদীরও যে জীবন আছে তা অনেকেই আমরা জানি না। নদীকে বাঁচাতে হবে এবং নিজেদের প্রয়োজনে বাঁচাতে হবে। নদী সচল না থাকলে বিভিন্ন জীব বৈচিত্র থেকে বঞ্চিত হতে হবে। এছাড়া নদী কেন্দ্রীক জীবন জীবিকার সাথে যারা জড়িত তারাও বঞ্চিত হবে। এজন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন
ধুনটে পানি শূন্য উপজেলা পরিষদ পুকুর, উন্নয়নে নেই প্রশাসনের কোনো পরিকল্পনা
রেললাইনের পাশে মিলল কলেজ শিক্ষকের মরদেহ
সিরাজগঞ্জে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে এক রাতে ৫টি গরু চুরি