
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান গাছ কেটে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় প্রশাসন ও বন বিভাগের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের সহযোগিতায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর আগে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বেল, শিশু, আকাশমনি, মেহগনি, রেইন্ট্রি ও বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে এসব গাছের অনেকগুলোই পরিপক্ক হয়ে উল্লেখযোগ্য অর্থমূল্যের সম্পদে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই বছর আগে বন্যায় কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি চক্র সেগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদের প্রতিবাদের মুখে বন বিভাগ ও প্রশাসন কিছু গাছ উদ্ধার করে এবং পরে টেন্ডারের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হয়। তবে এরপর থেকে বন বিভাগ সামাজিক বনায়নের গাছগুলোর তদারকিতে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি।
স্থানীয়দের দাবি, বেতকা থেকে উত্তর হোগলা পর্যন্ত এবং কালিগঙ্গা নদীর তীর থেকে উত্তর হোগলা নদীর পাড় পর্যন্ত রাস্তা ও নদীর তীরে থাকা শত শত মূল্যবান গাছ ধীরে ধীরে কেটে ফেলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত এক-দুটি করে গাছ কেটে গোড়াসহ অপসারণ করায় বর্তমানে অনেক স্থানই গাছশূন্য হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে গতকাল উত্তর হোগলা গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জাহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনের রাস্তার পাশ থেকে তিনটি সামাজিক বনায়নের বেলশিশু গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, গাছ ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ও কালাম কবিরাজ গাছগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল, লেমন, রাজু ও জাহিদসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ফারুক ও কালাম কবিরাজের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন ও কালাম কবিরাজ বলেন, তারা গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত নন। মাঝে মধ্যে দিনমজুর হিসেবে গাছ কাটার কাজ করেছেন মাত্র। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সামাজিক বনায়নের কিছু গাছ স্থানীয়ভাবে জড়ো করে বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। এসব গাছ বিক্রিতে ফারুক ও কালাম মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো গাছ বিক্রি করিনি এবং কাউকে গাছ কাটার নির্দেশও দিইনি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা কাউখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযোগের কপি এখনো আমার হাতে পৌঁছেনি। তবে বিষয়টি জানতে পেরে তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারি সম্পদ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে এক রাতে ৫টি গরু চুরি
পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
বগুড়ার শেরপুরে ‘এসো গড়ি নতুন দেশ’-এর উদ্যোগে ৩৫০ চারা রোপণ