হোম » সারাদেশ » সোনাইমুড়ি  প্রধান শিক্ষকের শ্রেণীকক্ষ দখল করে বসবাসও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

সোনাইমুড়ি  প্রধান শিক্ষকের শ্রেণীকক্ষ দখল করে বসবাসও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে পরিবার নিয়ে বসবাস ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পছন্দমত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করায় শিক্ষার পরিবেশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি বিব্রত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আবিরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে ভবনের তৃত্বীয় তলাকে নিজেরমত ফ্লাট বাসা বানিয়ে নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রধান শিক্ষকের বাড়ি পার্শ্ববর্তী খিলপাড়া বাজারে যা বিবদ্যালয় থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার  দূরত্ব। তবুও তিনি দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষ দখল করে বসবাস করে আসছেন। বিদ্যালয় ছুুটি হলে সব শিক্ষক বাড়ি ফিরলেও তিনি ফেরেন না। রান্না-বান্না, গোসল, বারান্দায় কাপড় শুকাতে দেয়াসহ গৃহস্থালি পরিবেশ তৈরি করে বিদ্যালয়কে রীতিমতো বাড়িঘরে রূপ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয় চলাকালেও তিনি থাকেন সেই কক্ষে। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাকরা বিব্রত হচ্ছেন।

এছাড়া অভিযোগ আছে দীর্ঘ দিন যাবত স্বৈরাচারী হাসিনার পিওন আলোচিত পানি জাহাঙ্গীর বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়ে প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমানসহ প্রায় ৫জন শিক্ষক ও নৈশ্য প্রহরীকে কোন ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অর্থেও বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছে। আর অবৈধ এই নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে জড়িত থাকায় অত্র এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক র্চচা বেশী হচ্ছে। আর এতে শিক্ষার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে এলাকায় কিশোরগাং ইভটিজিং এর মত সামাজিক অপরাধ বাড়তেছে।

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমেটির সাবেক সদস্য খোরশেদ ভুইয়া জানান, সভাপতি জাহাঙ্গীর ও প্রধান শিক্ষকের যোগ-সাজেসে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকর মুলত একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী যাদের নিয়োগে প্রচুর টাকার লেনদেন হয়েছে। আর ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ছাড়ায় পছন্দের লোকদেও নেওয়া হয়েছে।প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তিনি সেখানে বসবাস করেন। কিন্তু বসবাস করলে বাসা ভাড়া না দেওয়া ও বৈদ্যুতিক বিল বিদ্যালয় থেকে কেন পরিশোধ করা হয় তার কোন উত্তর দেননি তিনি।

সোনাইমুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, ‘শ্রেণিকক্ষ দখল করে কোনো শিক্ষকের বসবাস করার সুযোগ নেই। যদি ম্যানেজিং কমিটি থাকার সিদ্ধান্ত দিলে অবশ্যই বাসা ভাড়া ও অন্যান্য বিল পরিশোধ করেই থাকতে হবে।

নোয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর উদ্দিন জাহাঙ্গীর  জানান, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনলেও কেউ লিখিত অভিযোগ এখনও করেননি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তিনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে এলাকাবাসী গত কিছুদিন পূর্বে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের দূনীর্তির বিরুদ্ধে এলাকায় পোস্টার করে প্রতিবাদ জানায়।

-মোহাম্মদ হানিফ-

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!