হোম » সারাদেশ » জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ভুমি সহকারী কর্মকর্তা নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে 

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ভুমি সহকারী কর্মকর্তা নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে 

সিরাজগঞ্জে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে ৫ তলা বাড়ী নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ভুমি সহকারী কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়ন ভুমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সরজমিনের গিয়ে দেখা যায়, তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের মাসুমপুর উকিলপাড়ায় ৫ তলা বাড়ী নির্মাণ করছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নামজারি খারিজের নামে নানা কায়দাকানুনে তিনি অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই টাকা দিয়ে আলিশান বাড়ী নির্মাণ কাজ শুরু করাসহ নামে বেনামে ব্যাংক ব্যালেন্স ও জায়গা জমি ক্রয় করেছেন।

তিনি যে সম্পদ অর্জন করেছেন তার সাথে তার আয়ের কোন মিল নেই। বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হঠাৎ করে আলাউদীনের চেরাগের মতো তিনি কীভাবে এতো সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে সরকারি চাকরি বিধিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা (৩ ও ১৭) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের অনুমোদন ছাড়া, সরকারি কাজ ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে পারবেন না। এছাড়া তাদের আড়াই লাখ টাকার ওপরে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও সরকারের পূর্বানুমোদন লাগবে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্য অর্থাৎ স্ত্রী-সন্তানের নামেও কিনতে গেলে সরকারের পূর্বানুমোদন লাগবে। সরকারের পূর্বানুমোদনের বাইরে সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ ক্রয় বিক্রয়ে বাঁধা রয়েছে।

একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে এতো সম্পদের মালিক হলেন তা খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন দুদ’ক এর সুদৃষ্টি কামনা করছেন সিরাজগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা।

এ বিষয়ে ভুমি সহকারী কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য মাছুমপুর উকিল পাড়ায় ৬ শতক জায়গা ক্রয় করে ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ী নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। তবে সরকারি কর্মচারীদের বাড়ী নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে কাজেই সরকারের নজরে পড়ুক এমন নিউজ না হয় সে বিষয়ে তিনি অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইসরাত জাহান বলেন, সরকারি কোন কর্মচারী সরকারের পুর্বানুমোদন ছাড়া কোন সম্পদ ক্রয় করতে পারবে না, আড়াই লাখ টাকার ওপরে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও সরকারের পূর্বানুমোদন লাগবে। তবে নাজমুল হুদার বিষয়টি অবগত হলাম এখন এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-হুমায়ুন কবির সুমন-

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!