
শহীদ রঞ্জুর দুই বছরের শিশু কন্যা সুমাইয়া খান রোজা। বাবা শব্দটি এখনও বোঝার বয়স হয়নি শিশুটির। মাত্রই হাঁটতে শিখেছে। দুনিয়ার অনেক কিছু তার এখনো অজানা। তবুও তার চোখে যেন বাবাকে দেখার একধরণের ক্ষুধা। সে এখন সারাদিন খুঁজে বেড়ায় তার প্রিয় বাবার মুখ।
এদিকে, অবুঝ শিশুটি মায়ের কাছে প্রতিনিয়তই জানতে চাই তার বাবা কই? বাবা কবে আসবে বাড়ি। মোবাইলে বাবার ছবি দেখিয়ে শিশু সুমাইয়াকে মা মৌসুমী সান্ত্বনা দিচ্ছে। তবে এখনো সে বুঝতে পারেনি, তার বাবাকে সে কখনো দেখতে পাবে না। কোনদিনও পাবে না বাবার ভালোবাসা।
মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মাছুমপুর মহল্লার নিহত শহীদ সোহানুর রহমান রঞ্জুর বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাবা ফেরার অপেক্ষায় প্রতিদিন এভাবে নানা ধরণের আশ্বাস দিয়ে সুমাইয়াকে খাবার খাওয়ান আর ঘুম পারাচ্ছেন মা। শিশুটি ঘুমিয়ে পড়লে অঝোরে কাঁদেন, মেয়েকে দেয়া সান্ত্বনা বুকের ভেতর চাপা দিয়ে মনে নানা প্রশ্ন নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন নিহত রঞ্জুর স্ত্রী মৌসুমী।
এসময় রঞ্জুর স্ত্রী মৌসুমী খাতুন জানান, ঘটনার আগের দিন আমি বলেছিলাম। তুমি আন্দোলনে যাচ্ছো কিন্তু পুলিশ যেভাবে গুলি করছে। সাধারণ মানুষসহ অনেক মানুষদের গুলি করে মারছে। আমার কথায় তিনি বলেছিলেন, গুলি করা বন্ধ হয়েছে। আজকে দেশ স্বাধীন করবো। না হয় জীবন দিবো। এই বলে তিনি বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যায়। ঠিকই দেশ স্বাধীনও হলো তিনিও জীবন দিলেন। তিনি মারা যাওয়ায় আমার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরো জানান, রঞ্জুর লাশ বাড়িতে আনার পর প্রতিবেশীরা খাটিয়ার ওপর জাতীয় পতাকা বিছিয়ে দেন। রোজা ওই অবস্থায় বাবাকে দেখে। এরপর থেকেই বাবা কোথায় জিজ্ঞেস করে। আমার স্বামী তো কোনো দোষী ছিলো না। তাহলে তাকে কেন মরল। এর দায় কে নেবে? তার ছোট একটা মেয়ে আছে। তাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে গেলাম।
তিনি আরও বলেন, মাত্র সাত বছরের সংসারে স্বামীকে হারিয়ে তিনি পড়েছেন অথৈ জলে। তাদের তেমন জমি নেই। যা আছে, তা নিয়েও রঞ্জুর ভাইদের সঙ্গে ঝামেলা রয়েছে। এখন ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে কীভাবে চলবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না মৌসুমী।
প্রতিবেশী মেরী খাতুন বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন রঞ্জু। তাকে হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছেন। যতদূর শুনেছি, মৌসুমী সমাজকল্যাণ বিষয়ে স্নাতকে পড়ত। একটি চাকরি পেলে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে অন্তত দু’মুঠো খেতে পারবেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ খান হাসান বলেন, বৈষ্যম বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে নিহত হয়েছে রঞ্জু। লাশ দাফনের পরে নিহতের পরিবারকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগিতা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতের পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে জেলা বিএনপি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিরাজগঞ্জ জেলার সেক্রেটারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার পতনের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলেন। সেই আন্দোলনের সঙ্গে একতা জানিয়েছিলেন রঞ্জু। এতে রঞ্জুকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি দুর্দশায় পড়ে। পরে নিহতের পরিবারকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক