নতুন প্রজন্মকে জানাতে হাবিপ্রবিতে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার

আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলাদেশের নামক রাষ্ট্রের পরিচিতি এক গৌরবময় বিজয়গাঁথা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের এ স্বাধীনতার রয়েছে সুদীর্ঘ রক্তঝরা ইতিহাস। এ স্বাধীনতা কুড়িয়ে পাওয়া একমুঠো মুক্তো বা বদান্যতার উপহার নয়।এক সাগর রক্ত ও ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। মুক্তিসেনার রক্তে রঞ্জিত এক সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ৪৮ বছর পূর্বের ইতিহাসে প্রত্যেক্ষ সাক্ষী হতে পারেনি বলে তারা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে না তা কি হয়? তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও রক্তঝরা ইতিহাস তুলে ধরার জন্য
উত্তরবঙ্গের প্রথম ও সর্ববৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠিত করা হয় “মুক্তিযুদ্ধ কর্নার”। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবনের তৃতীয় তলায় মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার প্রতিষ্ঠিত হয় ২৭শে এপ্রিল ২০১৬ সালে ততকালীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি শুভ উদ্বোধন করেন।এ কর্ণারে ভাষা আন্দোলন সহ বিভিন্ন আন্দোলন ও স্বাধীনতার বই রয়েছে।দুর্লভ ছবি,স্বাধীনতার দলিল ও বিদেশিদের মুক্তিযুদ্ধের অবদান সম্পর্কিত বইও রয়েছে এ কর্ণারে।পাঁচশত  টাইটেলে দুই হাজার বই সংরক্ষিত আছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুল কাদের বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির
আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই তেমন একটা পড়া হয়নি। কর্নারটি চালু হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠি।সেই থেকে নিয়মিত লাইব্রেরিতে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক বই পড়ে আসছি।তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমী করতে হলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায় ,নতুন প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য আমাদের এই উদ্যোগ।এ কর্নারের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জানার আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও জাগ্রত থাকবে। আর এর মাধ্যমে দেশের কৃতী সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তার সম্বন্ধে বিস্তারিত বিষয় দেখা ও জানার সুযোগ পাবে।