JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.

বাংলাদেশীদের হয়রানির শেষ কোথায়?

কোলকাতা থেকে ফিরে এসে, মোঃ কবির হোসেন:

বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাংলাদেশি যাত্রী টুরিষ্ট ভিসা নিয়ে কোলকাতা যাচ্ছেন। কোলকাতা গিয়ে বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেক টুরিস্ট। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে অটো চালক, ট্যাক্সি ড্রাইভার, রিকসা চালক, বিভিন্ন দোকানদাররা অসৌজন্যমূলক আচরন করে বলে আক্ষেপ করে জানান বাংলাদেশি টুরিস্টরা। বৈধপথে ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেনাপোল চেকপোস্টের বিপরীতে হরিদাসপুর চেকপোস্টে (পেট্রাপোল) ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস ও বিএসএফের ঘুষ আদায়, যাত্রী নির্যাতন ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পুরনো। চাহিদা মতো টাকা না দিলে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। শুধু এমন ভোগান্তিই নয়, দেশি-বিদেশি যাত্রীদের মারপিট করার অভিযোগও রয়েছে ভারতীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ একের পর এক উঠলেও এ নিয়ে কোনো প্রতিকারের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

 

এছাড়াও ভারতীয় ইমিগ্রেশনে কাজের ধীর গতিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাংলাদেশি যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের মধ্যে আটকা পড়ে থাকেন। বাঁশের খাঁচায় যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে থাকতে হয় রোগীসহ শিশুদেরও। মাঝে মাঝে এই লাইন চলে আসে নোম্যান্সল্যান্ড ছাড়িয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে। প্রতিনিয়ত বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্র থেকে পাসপোর্টযাত্রীরা লাগেজ নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাদা পোশাকধারী (বিএসএফ)র সদস্যরা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে পুনরায় লাগেজ তল্লাশি চালাচ্ছেন। এ নিয়ে ভয়ে পাসপোর্টযাত্রীরা কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে সঙ্গে সঙ্গে তার আনিত বৈধ লাগেজ জব্দ করে কাস্টমসে জমা দিচ্ছে (বিএসএফ)। পরে ওই যাত্রীকে আবার বেনাপোল (পেট্রোপোল) কাস্টমস থেকে আটক মাল ছাড়াতে ২-৩ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

 

সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন বেনাপোল (পেট্রোপোল) আন্তর্জাতিক কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে তাদের লাগেজ তন্ন তন্ন করে চেক করার পর আবারও গেটের বাইরে এলে (বিএসএফ)র কাছে হয়রানির শিকার হতে হয়। সরকারি দুটো সংস্থার লোক ভিন্ন ভিন্ন আইন করায় তাদের হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে প্রতিদিন!! এমন হয়রানি বন্ধে যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা।

 

যাত্রীরা বলছেন, বৈধপথে পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এরকম দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজর দেওয়া দরকার। একজন যাত্রী বৈধভাবে ভারতীয় হাই কমিশনে ভিসার নির্ধারিত ফি ও সরকারের ভ্রমণকরের টাকা জমা দিয়ে ভ্রমণ করতে ঘাটে ঘাটে বিপুল ঘুষের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেকে অবৈধ পথে ভারত পারাপার হচ্ছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।

 

বাংলাদেশের সঙ্গে বেনাপোল (পেট্রাপোল) সড়ক দিয়ে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে চিকিৎসা, ব্যবসা, আত্মীয়স্বজনদের দেখা ও ভ্রমণে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের যাতায়াত দেশের অন্য পথের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া প্রতিবেশী এই দেশটির নাগরিকদের সঙ্গে অনেক বাংলাদেশির রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক। ফলে দিন দিন দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে আট হাজার বৈধ যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন।

 

যাত্রীরা বলছেন, ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ওপারে পৌঁছানোর পর থেকে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কেন্দ্রে ঢোকার পর শুরু হয় যাত্রী হয়রানি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি শেষে পাসপোর্টপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। না দিলে তারা যাত্রীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে থাকে। অনেক সময় যাত্রীদের আনা মালামাল ‘অবৈধ’ বলে কেড়ে নেয়। কোনো কোনো যাত্রীর শরীর তল্লাশি করা হয় অসৌজন্যমূলকভাবে। চাহিদা মতো টাকা না দিলে যাত্রীদের বসিয়ে রাখা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ইমিগ্রেশনেও একই অবস্থা। তাদের চাহিদা আরো বেশি। চাহিদা পূরণ না করলে পাসপোর্টে সিল না মেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পাসপোর্টে খোঁজা হয় ছোট খাটো ক্রটি। ত্রুটি খুঁজে পেলেই যাত্রীর কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হয় কয়েকগুন বেশি টাকা। টাকা না দিয়েই ইমিগ্রেশন পার হওয়ার কোন উপায় নেই।

 

ইমিগ্রেশন পার হলেও পড়তে হয় আরেক জুলুমের মুখে। লাল ও সবুজ পোশাকের ভারতীয় কুলি (লেবার) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে প্রতিদিন আদায় করা হয় বিপুল টাকা। প্রায় ৯৫ শতাংশ যাত্রীর কাছ থেকে তারা জোর করে আদায় করছে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানাভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে। মালামাল রেখে দেওয়ার ভয় দেখায় কুলিরা।

 

এদিকে, ফেরার পথে যাত্রীদের অনেককেই আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। বেশি ব্যাগ দেখলেই নিয়ে যাওয়া হয় (বিএসএফ) ক্যাম্পে। প্রতিবাদ করলে দৈহিক নির্যাতনও জোটে বলে অভিযোগ আছে।

 

ভারতীয় ভিসা দিতে ভারতীয় হাই কমিশন পাসপোর্ট প্রতি ৭০০ টাকা ফি নিয়ে থাকে। আর বাংলাদেশ সরকার নিচ্ছে ভ্রমণকর বাবদ ৫০০ ও টারমিনাল চার্জ বাবদ ৪২ টাকা করে। এছাড়া ভিসার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরো টাকা যায়। যাত্রীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সরকার অনেক আগেই বেনাপোল চেকপোস্টে আন্তর্জাতিক কাস্টমস-ইমিগ্রেশন ভবন, স্ক্যানার মেশিন, প্যাসেনজার টারমিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন করেছে। বাড়ানো হয়েছে কাস্টমস ও পুলিশের জনবল। কিন্তু যাত্রীদের সুবিধার জন্য কিছুই করেনি ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেট সুবিধা অপর্যাপ্ত। রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে ও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ করে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের সেখানে নেই কোনো ওয়াশরুম বা শেড। পাসপোর্ট পরীক্ষার নামে ইমিগ্রেশন পুলিশের বিপুল সময় নষ্ট করার অভিযোগ পুরনো।

 

আর বেনাপোল চেকপোস্টে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের তল্লাশির নামে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাসপোর্ট যাত্রীদের। একজন পাসপোর্ট যাত্রীকে কাস্টমসের তল্লাশির পর একই যাত্রীকে পুনরায় (বিএসএফ)র তল্লাশির কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়।

 

আমরা কোলকাতার দাদাদের কিপটেমি নিয়ে আমাদের গল্পগুলো ইদানিং আমার বুকে কাঁটা হয়ে বিধে। আমরা কি জানি কলকাতার দাদারা আমাদের নিয়ে কি ভাবে? আমরা কলকাতা শহরের মানুষের কাছে অত্যন্ত অর্বাচীন অপচয়কারী জাতি হিসাবে পরিচিত। কোলকাতার এক প্রবীনলোক জানিয়েছে যে তারা নিউমার্কেট এলাকাতে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশীদের যন্ত্রনায়, কারন বাংলাদেশী বেহিসাবি ক্রেতারা শুধু জিনিষপত্রের দামই বাড়ায়নি, ব্যাবসায়ীদের চরিত্রও নষ্ট করে দিয়েছে। কলকাতায় নাকি কথিত আছে যে, যে কোন আজে বাজে জিনিষ নিউমার্কেটে নিয়ে যাও, বাংলাদেশিরা কিনে ফেলবে। কোলকাতা শহরে প্রচুর টুরিস্ট ঘুরে বেড়ায়। সবাই ইতিহাস দেখতে যায়। আর বাংলাদেশিরা যায় অপচয় করতে। কোলকাতার লোকজন জানে যে আমরা তাদের মিতব্যয়ীতা নিয়ে কৌতুক করি। তারাও যে আমাদের অর্বাচীনতা নিয়ে রসিকতা করে সেটা কি আমরা জানি? বর্ডার পার হয়ে ভারত যাবার সময় আমাদের সাথের খালি স্যুটকেস, আর দেশে ফেরার সময় ওই স্যুটকেসের অস্বাভাবিক ওজন দেখে (বিএসএফ)র ওই কঠোর চোখেও যে মুচকি হাসির ঝিলিক দেয়, তাতে যে পরিস্কার একটা তাচ্ছিল্যের ছোয়া থাকে সেটা কি কখনও লক্ষ্য করেছেন?

এসেছে রমজান মাস, সংযমের মাস। আমাদের অর্বাচীনতার সর্বোচ্চ প্রদর্শনী করার মাস। প্রয়োজনের পাঁচগুন কিনতে হবে, প্রচুর আছে যার তাকেও হাত ভরে গিফ্ট দিতে হবে। জীবনে পাঞ্জাবী পরে না যে, তাকেও আজব আজব দামে পাঞ্জাবী কিনে দিতে হবে, যদিও তার গত বছরের পাঞ্জাবীর ভাজ এখনও খোলা হয় নি। তার সাথে আছে ঈদের শপিংয়ের জন্য কোলকাতা যাওয়া। পুজার চেয়ে বাংলাদেশিদের ঈদ শপিংএ নাকি লাভ বেশি হয়। বাংলাদেশে লম্বা যে কোন ছুটিতে কোলকাতার ব্যাবসায়ীদের নাকি চোখ চকচক করে। ঈদ হলে তো কথাই নাই।

 

দাদারা কন্জুস। তারা নাকি ঘরে মেহমান এলে জিজ্ঞেস করে “দাদা খেয়ে এলেন না যেয়ে খাবেন”? আমরা যে ভাবে ব্যাংকক, সিংগাপুর আর কোলকাতায় গিয়ে উপুর করে “দাদা”দের সব দিয়ে আসছি তাতে কিছুদিন পরে না আমাদের নিয়ে মানুষ কৌতুক করে বলে “দাদা খেয়ে এলেন, না আজও হাত পাতবেন”?

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

x

Check Also

ভুয়া কাষ্টমস্ কর্মকর্তা পরিচয়ে ১জন আটক

মোঃ আরিফুল ইসলাম সেন্টুবেনাপোল প্রতিনিধিঃ বেনাপোল আমড়াখালী বিজিবি  চেকপোস্টে ভারত থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে পরিবহন থেকে ...

error: Content is protected !!