JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
Home / সারাদেশ / ঘন ঘন কার্গো ডুবিতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
ঘন ঘন কার্গো ডুবিতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন

ঘন ঘন কার্গো ডুবিতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন

 আলিম বেগ, বাগেরহাট প্রতিনিধি : সুন্দরবনের পশুর নদীর হারবাড়িয়া এলাকায় ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবে গেছে লাইটার কার্গো জাহাজ ‘এমভি বিলাস’। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের আশপাশের নদীগুলোতে বারবার জাহাজ বা কার্গোডুবির ঘটনা পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত। এর ফলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়াসহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে সুন্দরবনের পরিবেশ।

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘কয়লার জাহাজ ডুবিতে সুন্দরবনের জলজ প্রাণীদের অস্তিত্বসহ জীববৈচিত্র্যর ব্যাপক ক্ষতি হবে। কারণ, এ কয়লা সাধারণত ইটভাটাগুলোতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব কয়লায় সালফারের পরিমাণ বেশি থাকায় তা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে থাকে।’ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও জাহাজ ডুবলে ওই জাহাজের ভেতরে থাকা তেল বা মবিলও পানির সঙ্গে মিশে যায়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

বিগত সাড়ে তিন বছরে এসব অঞ্চলে আটটি জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ঘনঘন জাহাজ ডুবের কারনে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে পানি অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য।পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে ফার্নেস অয়েল,পটাশ সার,কয়লা,সিমেন্ট তৈরির কাচামাল ক্লিঙ্কার, স্লাগ ও জীপসাম।

সুন্দরবনের আশপাশের নদীগুলোতে কয়লা বা তেলবাহী কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনা এই প্রথম নয় । ২০১৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর সুন্দরবনের মধ্যে শ্যালা নদীতে ঘন কুয়াশার কারনে সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডুবে যায় ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামের একটি ট্যাঙ্কার।২০১৫ সালের ৫ই মে সুন্দরবনের মরা ভোলা নদীর চরে ৫০০ টন পটাশ সার নিয়ে তলা ফেটে ডুবে যায় এমডি জাবালে নুর নামে একটি কার্গো জাহাজ।ফলে ৫০০টন পটাশ সার ছড়িয়ে পড়ে নদীতে।

একই বছরের ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর ডুবোচরে আটকা পড়ে ৫১০ টন কয়লা নিয়ে পশুর নদীতে তলা ফেটে ডুবে যায় জাহাজ এমডি মিয়া রাজ।২০১৬ সালের ১৯ই মার্চ সুন্দরবনের শ্যালা নদীর হরিন টানা এলাকায় ডুবোচরে আটকা পড়ে তলা ফেটে ১২৩৫ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় এমডি হর্স নামে একাট জাহাজ।২০১৭ সালের ১৩ই জানুয়ারি বঙ্গোপসাগর এবং পশুর নদীর মোহনায় তলা ফেটে ১হাজার টন কয়লা বোঝাই করা এমডি আইচগাতি নামের একটি জাহাজের ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

একই বছরের ২০১৭ সালের ৫ই জুন পশুর নদে তলা ফেটে ৮২৫ টন সিমেন্ট তৈরির কাচামাল স্লাগ নিয়ে ডুবে যায় এমডি সেবা নামে একটি জাহাজ। চলতি বছরের ১৭ই মার্চ মংলা –ঘষিয়াখালী চ্যানেলের রামপাল খেয়াঘাট এলাকায় প্রচন্ড ঢেউয়ে ২০০০ ব্যাগ সিমেন্ট নিয়ে ডুবে যায় এমডি মদিনা মুনাওয়ারা -১ নামের একটি জাহাজ।১৫ই এপ্রিল মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া-০৬ নম্বর এ্যাংকোরেজে থাকা একটি বিদেশী জাহাজ থেকে প্রায় ৭শ ৭৫ মেট্টিক টন কয়লা বোঝাই করা এম,ভি বিলাস নামক কার্গো জাহাজটি চরে আটকে কাত হয়ে গিয়ে ডুবে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের আশপাশের নদীগুলোতে কয়লা বা তেলবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত ভাবে। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে এমন কয়লাবাহী জাহাজের যাতায়াত আরও বাড়বে। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়বে। সুন্দরবনের সুরক্ষায় তাই এখনই সরকারকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।
ড. ফরিদ বলেন, ইউনেস্কো তাদের গত বাৎসরিক সভায় বড় ধরনের কোনও প্রকল্প নেওয়ার আগে সরকারকে একটি কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা করার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সরকার এখনও তা করেনি। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও সার্বিকভাবে সুন্দরবনের সুরক্ষায় এটা যত দ্রুত সম্ভব করা উচিত।

কয়লার কারণে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলিপ কুমার বলেন, কয়লায় সালফার থাকে। সেই সালফার পানিতে মিশলে পানির পিএইচ মাত্রা কমে যেতে পারে। এ ধরনের ঘটনা বেশি বেশি ঘটতে থাকলে পরিবেশের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। গত কয়েক বছর ধরে তো এমন দুর্ঘটনা বারবারই ঘটছে। ফলে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া দরকার। বিকল্প হিসেবে রাস্তা দিয়ে কয়লা পরিবহনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন এই অধ্যাপক।

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

Scroll To Top
error: Content is protected !!