হোম » ধর্ম » আগস্টেই প্যাকেজ ঘোষণা, খরচ কমাতে চায় সরকার

আগস্টেই প্যাকেজ ঘোষণা, খরচ কমাতে চায় সরকার

আওয়াজ অনলাই রিপোর্ট
আগামী বছরের (২০২৬ সালের) হজের জন্য সৌদি সরকারের দেওয়া রোডম্যাপ অনুযায়ী সব কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হলেও, বাংলাদেশকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করে পুরো প্যাকেজের টাকা পাঠাতে হবে সৌদি আরবে। এ কারণে চলতি বছরের মতো নয়, এবার হজ প্যাকেজ আগেভাগেই, আগস্ট মাসেই ঘোষণা করতে যাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
চলতি বছর সরকার হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল ৩০ অক্টোবর। অথচ এবার জুলাইতেই শুরু হয়েছে প্রাথমিক নিবন্ধন, যেখানে হজে যেতে ইচ্ছুকদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা আগাম নেওয়া হচ্ছে—প্যাকেজ ঘোষণা ছাড়াই। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তিতে পড়েছেন হজ গমনেচ্ছুরা। হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাব বলছে, প্রাথমিক নিবন্ধনে এত টাকা চাওয়া বাস্তবতা বিবর্জিত, যা মানুষের আগ্রহ কমিয়ে দেবে।
খরচ কমাতে সরকারি তৎপরতা
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবারও দুটি প্যাকেজ থাকবে। প্যাকেজ-১ হবে সাধারণ, যার খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিমান ভাড়া যেখানে গতবার ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা, এবার তা দেড় লাখ টাকার নিচে নামিয়ে আনতে চায় সরকার। আর প্যাকেজ-২ হবে ‘বিশেষ’, যেখানে হজযাত্রীরা কাবা শরিফের ৫০০-৭০০ মিটারের মধ্যে থাকার সুযোগ পাবেন, খরচ হবে ৭-৭.৫ লাখ টাকার মতো।

সৌদি আরব জানিয়েছে, ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁবু ও সেবাপ্যাকেজ বাবদ অর্থ পাঠাতে হবে। ৪ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি এবং ২০ জানুয়ারি থেকে হোটেল ও পরিবহন সংক্রান্ত অগ্রিম লেনদেন শুরু করতে হবে। এই পূর্ব প্রস্তুতির টাইমলাইন বাংলাদেশ সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক বলেন, “আগে ভাগে সব কাজ করতে হবে। সৌদি রোডম্যাপ মানতে না পারলে হজ অনিশ্চিত হবে।”

হজ হচ্ছে সামর্থবান মুসলমানের ফরজ ইবাদত। কিন্তু খরচের ভারে অনেকেই একে দুঃসাধ্য মনে করছেন। বিশেষ করে প্যাকেজ ঘোষণার আগেই চার লাখ টাকা জমা দিতে গিয়ে হতাশ অনেকেই। হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছি—প্রাথমিক নিবন্ধনে দুই কিস্তিতে টাকা নেওয়া হোক। চার লাখ অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য।”
আরেকটি বিতর্কিত প্রসঙ্গ—কোরবানি ও খাবার এবার সৌদি সরকারের অধীনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। হাব বলছে, “কোরবানি ব্যক্তি সামর্থ্যের বিষয়। আবার সৌদি খাবার মানে ভালো না, দীর্ঘসময় দিলে সমস্যা হবে।” তারা সরকারকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে।

হজ বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন। কিন্তু সময়ের আগেই বিশাল অঙ্কের টাকা দাবি ও পরিষ্কার তথ্যের অভাবে প্রশ্নের মুখে সরকারি পরিকল্পনা। ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, “আমরা খরচ কমিয়ে সেবার মান বাড়াতে চাই।” এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী আগস্টে হজ প্যাকেজ প্রকাশ করে তারা কতটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!