
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ভারত ভেবেছে নির্বাচন হলে যেনতেন সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসবে। আর লাঠি ঘুরাবে। আপনারা এটা ভাববেন না। যেই আসুক দুর্বল সরকার হবে না। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মতিঝিল থানার আয়োজনে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ওদিকে আবার ভারত নির্বাচন চায়। আবার এই দেশের লোকও চাচ্ছে নির্বাচন দেন। এখানে কিন্তু বিশাল ব্যাপার আছে।
ভারত চাচ্ছে এই দেশের নির্বাচন ভারতের স্বার্থে, আমাদের স্বার্থে নয়। বাংলাদেশের স্বার্থে নয়। আর আমরা নির্বাচন চাচ্ছি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে। ভারত ভেবে নিয়েছে, নির্বাচন দিলে বাংলাদেশে যেনতেন একটা সরকার আসবে। আর তারা লাঠি ঘুরাবে। এটা ভাবলে হবে না। প্রিয় প্রতিবেশী (ভারত) ভাইয়েরা, এ কথা ভাববেন না কোনোদিন। সরকারে যেই আসুক, সেই সরকার দুর্বল হবে না। এই দেশের সরকার জনগণের সমর্থন নিয়েই টিকে থাকবে।
সুতরাং কোনো সরকারকে দুর্বল ভাববেন না। যেই আসুক।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘নির্বাচনের কথা শুনলেই অনেকের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। আরে বিএনপিকে এত ভয় কেন? জনগণ যাকে চায় সেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। নির্বাচনের পর যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার বিচার হতেই হবে। যারা গণহত্যা করেছে, লুট-ছিনতাই করেছে, সম্পদ লুট করেছে, যারা এই দেশের শিশু বাচ্চাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছে, তারা কেউ যেন বিচারের হাত থেকে রেহাই না পায়। সেই বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তবে এই উছিলা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে সরা যাবে না। সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলবে।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী কমিটির এই সদস্য বলেন, বাকশাল উঠিয়ে দিয়ে সর্বদলীয় রাজনীতি চালু করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার করেছিলেন। বাকশালের কারণে হাসিনার রাজনীতির কোনো সুযোগ ছিল না। জিয়াউর রহমান তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সকল পত্র-পত্রিকা চালু করেছেন, জনগণকে কথা বলার ও ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করেছিলেন।
কর্মশালায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা ডা. মাহাদী আমিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর হাসান রবিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন
সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা জানালেন- মির্জা ফখরুল
তোফায়েল আহমেদ আর নেই
এনসিপির ২২ নেতার একযোগে পদত্যাগ