
মোঃ হাবিবুর রহমান: যাবার দিনে এই কথাটি বলে যেন যাই – যা দেখেছি, যা পেয়েছি, তুলনা তার নাই। এই জ্যোতিসমুদ্র মাঝে যে শতদল পদ্ম রাজে তারি মধু পান করেছি, ধন্য আমি তাই। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এঁর ৮২তম মহাপ্রয়াণ দিবস পালন করা হয়েছে।
কবিগুরুর তিরোধান দিবসে সরকারিভাবে কিংবা শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কোন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের আয়োজন চোখে না পড়লেও দিবসটিকে ঘিরে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করে কবির নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়টি। রবিবার (৬ আগষ্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সকাল ১১টায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভার মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালি জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নোবেল বিজয়ী। বাঙালি সংস্কৃতি বিনির্মাণে রয়েছে তাঁর অনন্য অবদান। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে কবির গান ও কবিতা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে; শক্তি যুগিয়েছে।
তিনি আনাদের জাতীয় সংগীতের স্রষ্টা। এই মহান কবির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। কবির মহান সৃষ্টিকর্মকে বিদ্যায়তনিক চর্চার অন্তর্ভুক্ত করে নবীন প্রজন্মকে রবীন্দ্র ভাবধারায় আলোকিত করতে আমরা নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছি। কবির প্রয়াণ দিবসে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কবিকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
রবি উপাচার্য আরও বলেন, এই শোকাবহ আগস্টেই আমরা হারিয়েছি বাঙালি জাতিসত্তার রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ই আগস্টে নিহত সকলের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্মাণ, রবীন্দ্র কবিতার চলচ্চিত্রায়ণ ‘বাঁশি’ পরিবেশিত হয়। সবশেষে সত্যজিৎ রায় কর্তৃক নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. ফকরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসমূহের চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী , শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

আরও পড়ুন
অপ্রত্যাশিত দেখা!
উইশলিস্টে রাখতে পারেন তুহিন সুলতানা মুক্তি’র ” ভালোবাসতে পারো আমায় “
অটল সাহসের গান