হোম » গণমাধ্যম » সাংবাদিকতা এতটাই কঠিন  আগুন হাতের তালুতে রাখার মত

সাংবাদিকতা এতটাই কঠিন  আগুন হাতের তালুতে রাখার মত

মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি : সমাজে দায়বদ্ধতা নিয়ে একজন সাংবাদিক সততা ও নিষ্ঠার সাথে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করে জনগনের সামনে তুলে ধরে ন্যায়,অন্যায়,দূর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র। সাংবাদিকদের এরকম তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করে জনসমে প্রকাশ করলে সহজেই যে কেউ অনিয়ম, দূর্নীতি করার সাহস হারিয়ে ফেলবে। 
সাংবাদিক একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পেশা। তবে এই বিষয়ে বর্তমান সময়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষ এর মধ্যে অনেকের সততা নীতি রয়েছে আবার অনেকেই সততা নীতি বিসর্জন দিয়ে সাংবাদিকতা করছেন। তাইতো সাংবাদিক সম্পর্কে বর্তমান সময়ে ভিন্ন মতামত ভিন্ন ব্যক্তির কাছে। একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব হচ্ছে যে কোন নিউজ সঠিকভাবে মানুষের মাঝে তুলে ধরা।সাংবাদিকতা হ’ল জনগণ এবং যে কোনও ধরণের সর্বগ্রাসী নিয়মের মধ্যে সুরক্ষা। এজন্যই আমার নায়ক, স্বীকার করেছেন যে ত্রুটিযুক্ত, তিনি একজন সাংবাদিক।
আর এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে একজন সাংবাদিকের সৎ গুণাবলী।নৈতিকতা ঠিক রেখে সামাজিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে এ পেশা চালিয়ে যাওয়াই হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকতা। কারণ জাতি একজন সাংবাদিকের উপর অনেক কিছু আশা করে। জনগণের আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটার জন্য সাংবাদিকদের হতে হবে সৎ ও নির্ভিক কলম সৈনিক। সাংবাদিকরা হচ্ছে দেশ প্রেমের দীক্ষায় দীক্ষিত দেশ প্রেমিক, কলম সৈনিক।
সাংবাদিক শব্দটি ছোট হলেও এই মহান পেশা সাংবাদিকতা অনেক সম্মান জনক। সাংবাদিকতা শুধুমাত্র একটি পেশা নয় বরং একজন আদর্শ সাংবাদিককে বলা হয় জাতির জাগ্রত বিবেক।একজন প্রকৃত সাংবাদিক হতে গেলে অবশ্যই ওই সাংবাদিককে সাংবাদিকতার আদর্শ লিপি পড়তে হবে,আপসহীন, নীতিবান, আদর্শ সাংবাদিক; নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার এতটাই কঠিন  আগুন হাতের তালুতে রাখার মত।
সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে অপরাধ তুলে ধরা আর পুলিশের কাজ হচ্ছে সেই অপরাধ নির্মুল করা।পুলিশ হতে যেমন ছয়মাস/এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। ঠিক তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিক হতে হলে মৌলিক প্রশিক্ষণসহ সাংবাদিকতা  প্রতিদিন কোন আদর্শ সাংবাদিকের সাথে থেকে সাংবাদিকতা শিক্ষা   ও প্রতিদিন পত্রিকা   বেশি বেশি করে পড়তে হবে।বাজার থেকে কাপড় কিনে পুলিশের ড্রেস তৈরী করে রাস্তায় দাঁড়ালেই যেমন পুলিশ হওয়া যায়না।
ঠিক তেমনি গলায় আইডি কার্ড আর হাতে কলম/ক্যামেরা নিয়ে রাস্তায় বের হলেই সাংবাদিক হওয়া যায়না। আজকের দেশ  পুলিশ এবং সাংবাদিক এই দূই পেশাদার বেক্তির কাজই হলো জনগণের সেবায় নিয়জিত থাকা। সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত জনগণের পাশে দাড়িয়ে তাদের সেবা নিশ্চিত করা।পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা খুবই সম্মান জনক ও চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। মানব সমাজে এ পেশার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সমাজে সাংবাদিক দের রয়েছে দ্বায়বদ্ধতা।
এ দ্বায়বদ্ধতা নিয়ে মহান পেশাতে নিয়োজিত থেকে সমাজের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার জন্য সদা সচেষ্ট থাকাই হচ্ছে সাংবাদিকদের কাজ। নীতিবোধ ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এ পেশাকে কলংকিত করা প্রকৃত সাংবাদিকের কর্তব্য নয়। নৈতিকতা ও নীতিবোধের মধ্যে থেকে সমাজের অনিয়ম ও দূর্নীতির চিত্র জন সমক্ষে প্রকাশ করাই সাংবাদিকের কাজ।
সামাজিক দৃষ্টিতে মহান ও সম্মানজনক এ পেশাকে সমাজের কাছে চির উন্নত রাখাই সাংবাদিকদের কর্তব্য। নৈতিকতা ও নীতি বোধের মধ্যে থেকে সমাজ সেবা করা সাংবাদিকদের ব্রত হওয়া চাই। সমাজে মানুষ যখন এক শ্রেণীর লোকেদের দ্বারা অত্যাচারিত ও নিষ্পেষিত হয়ে কোথাও কোনো বিচার না পায় তখন বাধ্য হয় সাংবাদিকদের নিকট স্বরনাপন্ন হতে। তখন নিষ্পেষিত ঐ লোকটির সাংবাদিকই একমাত্র ভরসা।
সমাজের নিরীহ মানুষের এমন দূর্দিনে যদি সাংবাদিকরা নৈতিকতা ও নীতিবোধ বিসর্জন দেয় তাহলে সমাজে সাংবাদিকদের গ্রহণ যোগ্যতা থাকবেনা। আর এ কারণেই সমস্ত সাংবাদিক সমাজ হবে ঘৃনা ও উপহাসের পাত্র।
তাই নৈতিকতা ও আদর্শ্যরে মধ্যে থেকে সমাজের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করলে সর্ব মহলে সাংবাদিকদের মান মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
 সাংবাদিকতাই হোক আর অন্য যে কোনো পেশাই হোক নীতিবোধে অটল থাকাই বাঞ্চনীয়। একজন পেশাজীবির নৈতিকতা বিসর্জন দিলে তার আর কিছুই থাকেনা। সংবাদ পরিবেশনায় বিভ্রান্তি বা উস্কানির কোনো গ্রহণ যোগ্যতা নাই। এজন্য একজন সাংবাদিককে হতে হবে দ্বায়ীত্বশীল সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্ব। আর থাকতে হবে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নৈতিকতা
বাংলাদেশে একমাত্র সাংবাদিকতা পেশায় সাংবাদিক পরিচয় দিতে কোন সার্টিফিকেশন বা সনদ প্রয়োজন হয় না। এর ফলে যে কোন মানের লোকজন এ পেশায় আসছে। অর্থের দাপটে, ক্ষমতার দাপটে তারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। যেখানে পেশাদার সাংবাদিক বঞ্চিত হচ্ছে।সমাজের দর্পন,জাতির বিবেক,দেশের চতুর্থ স্তম্ভ হলো সাংবাদিক।
 যা আজ বর্তমানে অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পরিণত হয়েছে। পারিপার্শ্বিক নানান হতাশা আর চরম বিষণ্ণতায় ভুগছেন এই সাংবাদিক। সেই সাথে আরো বেশি হতাশা ও বিষণ্ণতায় ভুগছেন মফস্বলে কর্মরত বিভিন্ন গনমাধ্যমের এই সাংবাদিকরাদ।একজন  সাংবাদিককে অবশ্যই সৎ ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। লোভের কাছে নতজানু না হওয়া, অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা, পেশার প্রতি সৎ থাকা আর নিজের যোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে চলার মধ্যে দিয়েই তিনি একজন বড় সাংবাদিক হয়ে উঠবেন।
সাংবাদিক হতে গেলেই তাকে লিখতে জানতে হবে। একটি ভালো প্রতিবেদন কিভাবে লিখতে হয়, সেটাকে কতোটা সুখপাঠ্য ও সহজবোধ্য করে পাঠকের কাছে পৌঁছানো যায়, তার জন্য নিয়মিত চর্চা করতে হবে। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক দীর্ঘ সময়, অর্থ ব্যয় করে একটি সংবাদের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এই সংবাদটি সূচারুরুপে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করতে পারাটাও একটি বড় যোগ্যতা।
একজন সাংবাদিক সর্ব সময়ে নিরপেক্ষ থাকবেন। হ্যাঁ তিনি কোনো দলের আদর্শ ধারন করতে পারেন কিন্তু সংবাদে তার কোনো প্রতিফলন করতে পারেন না। উদ্ধৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে সাবধান থাকা জরুরি। অবশ্যই আসামী এবং বাদী দুই পক্ষের মন্তব্য প্রকাশ করতে হবে। এক পক্ষের বিবৃতি প্রকাশ সাংবাদিকতার নীতি বহির্ভূত। কোনো ক্ষেত্রে যদি বিবৃতি প্রদান করতে হয় তবে বিবৃতিদাতা যা বলেছেন অবশ্যই পূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ করতে হবে। আংশিক কোনো ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকতার নীতি বহির্ভূত কোনো প্রচার সংবাদ হিসেবে গণ্য হবেনা। কোনটি সংবাদ কিংবা কোনটি সংবাদ না এটি জানা খুব জরুরি।
একজন সাংবাদিককে অবশ্যই পরিপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। সংবাদের ক্ষেত্রে কোনভাবেই নিজস্ব মন্তব্য প্রকাশ করা যাবেনা। যদি প্রকাশ করা হয় তবে এটি সংবাদ হিসেবে পরিগনিত হবেনা। একজন সাংবাদিক যদি কোনোভাবেই জোরপূর্বক সংবাদ গ্রহণ করেন কিংবা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তির নাম প্রকাশ করেন তিনি মুদি দোকানদার হিসেবে খুব সাফল্য লাভ করবেন। পরিশেষে সাংবাদিকতা একটি পেশা এবং নেশা। যিনি যেভাবে গ্রহণ করেন। তবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার পূর্ণ ব্যাবহার এখনো সৃষ্টি হয়নি, আবার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধ্যতামুলক সাংবাদিকতা বিষয়ে পাঠের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তাই বাংলাদেশে অধিকাংশ সাংবাদিক আসে শুধুই জীবিকার তাগিদে। তবুও আশায় থাকি আমাদের দেশে সাংবাদিকতার নীতি এবং আদর্শ বাস্তবায়ন হবে পরিপূর্ণ রুপে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!