হোম » প্রধান সংবাদ » টাকা চাইনা চাকরী চাই

টাকা চাইনা চাকরী চাই

খাদিজা আক্তারঃ মহামারী করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বের লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের কেড়ে নিয়েছে জীবন, কেড়ে নিয়েছে  মানুষের বেচে থাকার সম্বল। থামিয়ে দিয়েছে মানুষের জীবন, সারা বিশ্বের মানুষ অসহায়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে। থমকে আছে সারা পৃথিবী। চাকুরী হারাচ্ছে শত শত বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্টানের শ্রমিক এবং বন্ধ হচ্ছে গার্মেন্টস কারখানা । অর্থনৈতীক ক্ষতিগ্রস্থ সংকটের মধ্যে পরছে দেশ, সমাজ ও পরিবার। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে

দিয়ে দিন কাটছে খেটে খাওয়া মানুষ গুলির। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্টানের দারে দারে। ঠিক তেমনি রানী নামের ৩৮ বছর বয়সের এক শ্রমিকের কথা না বল্লেই নয়, রানীর গ্রামের বাড়ী পিতকাটা, পটুয়াখালী জেলায় জন্ম তার । ৪ ভাই বোনের মধ্যে তিনিই বড়। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরার জন্য ২০০১ সালে ৮০০শত টাকা বেতনে হেলপার পদে সে গার্মেন্টস চাকরী নেয়। সমাজের রিতিনীতি ও ধর্মিও

সংস্কৃতি রেওয়াজের জন্য তাকে ২৬ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়। কিন্তুু বিধাতার বিধান না যায় খন্ডন বিবাহের দু- বছর পরে স্বামী রোড একসিডেন্টে মারা যায় অতি অভাব আর অনটনের মধ্য দিয়ে জীবন কাটায় রানী অসহায় মা বোন আর ভাইকে নিয়ে। সুখের মুখ দেখা তো দুরের কথা দু বেলা মা ভাই বোনের মুখে ডাল ভাত জোগার করার জন্য তাকে গার্মেন্টসে সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮টা ১০টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় ৩বছর পর রানী মেশিন

চালানো শিখে অপারেটর হয় একি কারখানায় তার ২০ বছর চাকরীর পর বেতন পায় সে ১০ হাজার টাকা। একি কারখানায় লেট এফসেন্ট না করে ২০ বছর কাজ করেন রানী। মহামারী করনার সময় সে ভিশন অসুস্থ্য হয়ে পরে কারখানা ছুটি দেয়। সে আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নিয়মিত সদস্য থাকায় আওয়াজ ফাউন্ডেশন তার চিকিৎসার দায়িক্ত নেয়। এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনের জন্য ডাক্তারের কাছে পাঠায় ডাক্তার তাকে ডায়াগনোষ্টিক

পরিক্ষা নিরিক্ষা করান এবং রানীর রির্পোট খারাপ তাহার পিত্ত্যথলিতে পাথর ও জরায়ুর সমস্যা ধরা পরেন। ডাক্তারের রির্পোট অনুযায়ী তাকে অপারেশনের ব্যবস্থা করানো হয়। প্রায় ২মাস সে কাজে যেতে পারে না তাই কারখানা তাকে আর কাজ না দিয়ে বের করে দেয়। রানীর চাকরী নাই শুনে মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পরে চাকরী ছারা তার মা ভাই

বোন কে সে কি খাওয়াবেন। রানী আওয়াজ ফাউন্ডেশনে এসে অভিযোগ করেন। আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি কারখানার ম্যানেজম্যান্টদের সাথে ফোনে আলোচনা করেন এবং ম্যানেজম্যান্ট জানায় সে ২মাস কাজে অনুপস্থিত তাই তাকে আর কাজ দেওয়া সম্ভব না রানীকে আইন অনুযায়ী সার্ভিস বেনিফিট ১ লক্ষ্য ২০ হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। কারখানার সিদ্ধান্ত রানীকে জানানো হয় রানী বলেন আপা টাকা দিয়ে কি করুম টাকা কয়দিন বসে খাইলেই তো শেষ হইয়া যাইবো পরে আমার মা বোন কে নিয়া আমি কি খামু কোথায় দারামু আপা গো আমার টাকা চাইনা

চাকরী চাই। আমারে চাকরীটা ফিরাইয়া দেন। রানীর এই কথা সুনে আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আবারও কারখানায় ফোন দেয় এবং অনেক অনুরোধ করে বলে রানীর চাকরী ফিরিয়ে দেয়। মহামারী করোনার সময় রানীর মতো হাজারও শ্রমিককে চাকরী চলে গেছে এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশন শ্রমিকদের পাশে দাড়িয়ে কাজ করেছে বলে রানীর মতো অনেক শ্রমিক চাকরী ফিরে পেয়েছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!