হোম » প্রধান সংবাদ » বগুড়ায় ছিন্নমূলদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে মুনলাইট সোসাইটি

বগুড়ায় ছিন্নমূলদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে মুনলাইট সোসাইটি

এম.এ রাশেদ: কেউ এক গাঁথা কষ্ট নিয়ে ভিক্ষা করছে, কেউ সারাদিন ঘুরে ফিরে রাতে রেলস্টেশন অথবা ফুটপাতে ঘুমিয়ে পড়ে, কেউ জানে না তার বাবা-মার পরিচয়, এমন সব মানুষদের প্রতিদিন খাবার দিচ্ছে মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি । করোনাকালে বগুড়া শহরের সাতমাথায় প্রতিদিন দুপুরে খাবার তুলে দিচ্ছে মানবিক এ সংগঠনটি।
প্রতিদিন একশ জনকে মাছ, মাংস, ডিম ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর রানা খাবার দেয়া হয়। প্রতি শুক্রবার আড়াইশ জনকে দেয়া হয় পোলাও, রোষ্ট, মিষ্টিসহ উন্নতমানের খাবার। আবার নতুন নতুন ফলও খাওয়ানো হচ্ছে, করোনায় কর্মহীন মানুষদের। এছাড়াও শীত, ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে দেয়া হচ্ছে সবাইকে নতুন কাপড়।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, দেশে করোনা সংক্রমনের পর গতবছরের ২৬ জুন থেকে টানা এক বছর প্রতিদিন
একইভাবে দেয়া হচ্ছে খাবার। উইকেয়ারের সহযোগিতায় বন্ধু- বান্ধব আর নিজেদের উপার্জিত অর্থে তারা এই কার্যক্রম চালাচ্ছে। শহরের ষ্টেশন রোড়ের সেন্টাল মসজিদের পাশে খাবার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সমাজসেবা বগুড়ার উপ-পরিচালক আবু সাঈদ মো: কাওছার রহমান। পরবর্তীতে শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথায় নতুন কেন্দ্রে খাবার বিতরণ শুরু করা হয়। এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক।
করোনাকালে শুধু খাবার বিতরণ নয়, বগুড়ায় মুনলাইট ডেভলপমেন্ট সোসাইটি মানবসেবায় আরো বহু কাজ করছে। করোনাক্রান্তদের ওষুধ, খাবার পৌছে দেয়াসহ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে করোনা রোগী, স্বাস্থ্যকর্মি ও চিকিৎসকদের প্রতিদিন বোতলে করে খাবার পানি দিচ্ছে। এখন হাসপাতালের প্রতি ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ খাবার পানির ফিল্টার লাগিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে পানি পাচ্ছে বহু মানুষ। শহরের সেন্ট্রাল মসজিদেও খাবার পানির সংকট ছিল, সেখানে এবং আরো কয়েকটি মসজিদে পানির ফিল্টার লাগিয়ে দিয়েছে মুনলাইট। এ ছাড়াও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০ টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
গাবতলী উপজেলার সুবাদ বাজারে মুনলাইট অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষাদান করছে। পাশাপাশি তাদের মানসিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়ক দেয়া হয়। মুনলাইট সংগঠনের এগ্রো মিনি ফার্ম রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিবন্ধিদের উন্নয়নে ও বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করছে সংগঠনটি।
এছাড়াও গাবতলীর সুবাদবাজারে মুনলাইট হেলথ কেয়ার স্থাপন করে ও প্রতি শুক্রবার অস্বচ্ছল রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। চিকিৎিসাসেবার মধ্যে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৩৩ জন রোগীকে চিকিৎসা প্রদান, ৮৫ জনের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়েছে। দুর্গম চরে চিকিৎসা ছাড়াও দাঁতের চিকিৎসা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্টির চিকিৎসা সেবায় কক্সবাজারেও কাজ করছে মুনলাইট।
এ মহৎ উদ্যোগের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফ রেহমান জানান, সংস্থার উদ্যোগ এত ভালো যে, অনেকদিন ধরে সাতমাথায় খাবার বিতরণ দেখছি। একমুঠো খাবার পেয়ে সব হারানো মানুষদের মুখে আনন্দের ছটা সবাইকে আবেগ আপ্লুত করে।  এ বিষয়ে মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সভাপতি জান্নাতুল বাকিয়া জানান, উইকেয়ারের সহযোগিতায় টানা এক বছর মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। যারা এ কাজে সহযোগিতা করছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!