
আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ৭ম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান। বুধবার (৩০ জুন) মহামান্য রাষ্ট্রপতি এর অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো: নূর-ই-আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ম হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-কে আগামী ৪ বছরের জন্য হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ করা হলো।
অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থ সংস্থান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্যে দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তিনি পরবর্তীতে ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ হতে ১৯৯৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (কৃষি অর্থনীতি) ডিগ্রি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯৬ সালে কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জাপান সোসাইটি ফর দি প্রমোশন অভ সায়েন্স (জেএসপিএস) ফেলোশিপ নিয়ে জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০০৯ সালে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান ৬ (ছয়) জন পিএইচডি ছাত্রের মেজর প্রফেসর ও গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক এবং ২ (দুই) জন পিএইচডি ছাত্রের এডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৪৩ জন এমএস ছাত্রের মেজর প্রফেসর ও গবেষণা তত্বাবধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে ৪০ টিরও বেশী গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে উচ্চ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর সমৃদ্ধ গবেষণা প্রবন্ধও রয়েছে। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে ১২টি গবেষণা প্রকল্প সম্পাদন করেছেন এবং কৃষি অর্থনীতি ও এগ্রিবিজনেস বিষয়ে কোর্স কারিকুল্যা তৈরি বিষয়ক পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি ঐ অনুষদে ৬ বছর ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি মহামান্য চ্যান্সেলরের মনোনয়নে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের প্রতিনিধি হিসেবেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের
ম্যানেজমেন্ট বোর্ডে খন্ডকালীন সদস্য হিসেবে ২০১৫ সাল হতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং মহামান্য চ্যান্সেলরের মনোনয়নে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে অর্থ কমিটির সদস্য, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), সহযোগী পরিচালক (গবেষণা), ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান পেশাগত সংগঠন সমূহেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটিতে ২০০৯ হতে ২০১৬ পর্যন্ত গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ২০০৫ সাল হতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব,
সহ-সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ গাজীপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছাত্রজীবনে ১৯৯২-৯৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফজলুল হক হল শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার কোড়ালিয়া রোডে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম এ. কে. এম. জহিরুল হক এবং মাতার নাম নার্গিস বেগম। তাঁর সহধর্মিনী আমেনা খানম এবং তিন কন্যা হলেন নুজহাত তাসফিয়া অর্পা, ফাবিহা তাসফিয়া অথৈ এবং ওয়াসিফা তাসফিয়া অর্ষা।
হাবিপ্রবি’র নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয় আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা সকলে সাথে নিয়ে বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। হাবিপ্রবি বাংলাদেশের অন্যতম সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। তাই আমি চাই এই সুনামকে ধরে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। শিক্ষা ও গবেষণায় যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না পরে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। সর্বোপরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমি অবদান রাখতে চাই ।
শিক্ষার্থীদের সেসনজট ও অন্যান্য সমস্যা কিভাবে দ্রুত সমাধান করা যায় এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি লকডাউন পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ক্যাম্পাসে যাবো। আশা করি ক্যাম্পাসে গিয়ে সকল সমস্যা দেখে সমাধানের উপায় বের করবো। আমি প্রত্যাশা করি আমাকে সকলে এ ব্যাপারে সহায়তা করবে ।
উল্লেখ, ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেমকে চার বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। গত ৩১ জানুয়ারি তার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য অফিস আদেশ দেয়।আজ বুধবার সপ্তম উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড.এম.কামরুজ্জামান ।

আরও পড়ুন
জামালপুরে অস্তিত্বহীন রাইসমিলের নামে সরকারি বরাদ্দের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মেলান্দহে ৪ লাখ টাকার হেরোইনসহ ধরা পড়ল স্বামী-স্ত্রী
ডিমলায় একদিনে পাঁচ খাতে সরকারি সহায়তা বিতরণের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য