
বগুড়া থেকে এম.এ রাশেদঃ কবি সাজিব চৌধুরী, পিতা- নান্টু চৌধুরী, মাতা- আরতি চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানাধীন নাটমুড়া গ্রামে ১৯৭৯ সালের ১৫-ই সেপ্টেম্বর এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠ। তাঁর দুই মেয়ে অন্বেষা চৌধুরী(পড়শি) ও অদ্রিকা চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী মিশু চৌধুরী কবির লেখালেখিকে অন্তর থেকে সমর্থনের পাশাপাশি পরিবার দেখাশোনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন। বড় বোন নমিতা চৌধুরী ও বড় ভাই রাজীব চৌধুরী কবিকে লেখালেখিতে সবসময় উৎসাহ দিয়ে
আসছেন। স্কুল জীবনে তিনি মেধাবী ছাত্র হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাঁশখালী থানাধীন নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। কবি সাজিব চৌধুরী এসএসসি পাশের পর পিতার অকাল মৃত্যুতে কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে তিন বছর পোষাক শিল্পে চাকুরী করেন। পরবর্তীতে আত্মপ্রচেষ্টা ও বড় ভাই রাজীব চৌধুরী ও মা আরতি চৌধুরীর নিবিড় ভালোবাসা ও একান্ত প্রচেষ্টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা সাহিত্যে এম.এ এবং শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি
লাভ করেন। আর্থিক অভাবঅনটন, নানা ঝড়ঝাপটাসহ সব ধরণের বাধাবিপত্তি পরাস্ত হয়েছে কবি’র অদম্য চেতনা ও পরিশ্রমের কাছে। পিতা নান্টু চৌধুরী একজন কৃষিজীবী মানুষ হলেও খুবই সচেতন ব্যক্তি হিসাবে নিজ এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাঁর একান্ত আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমে কবিকে শৈশব থেকে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের চেষ্টা করেন। পিতার সংস্কৃতিমনা চিন্তাচেতনা কবিকে খুব আকর্ষণ করে। আবৃত্তি ও সঙ্গীতচর্চায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ না হলেও তিনি সবসময় নিজেকে এই ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখেছেন। স্কুল ও কলেজ জীবনে তিনি বিভিন্ন খেলাধুলা, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। সেক্ষেত্রে তাঁর
সফলতাও কম নয়। পেশাগত জীবনে তিনি ২০০৩ সালে পশ্চিম বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে (রাউজান, চট্টগ্রাম) সহকারী শিক্ষক হিসাবে তাঁর পেশাগত জীবন নতুনরূপে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে প্রবর্তক বিদ্যাপীঠে (পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম) সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি নৌ-মন্ত্রনালয়ের রাজস্বভূক্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত আছেন। তিনি বেশ কয়েকবার উক্ত বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন
করেন। এছাড়া, তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। নোয়াখালী ভিত্তিক সাহিত্য পরিষদ “স্বপ্নযাত্রা সাহিত্য সংগঠন” -এর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি সাজিব চৌধুরী বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত “বাংলাদেশ কবি পরিষদ”-এর আজীবন সদস্য এবং “ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবার”-এর প্রধান সমন্বয়ক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ কবি পরিষদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখার নির্বাহী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। একজন সাহিত্য সংগঠক হিসাবে তাঁর কৃতিত্ব কম নয়। তিনি
২০১৮ সালে তাঁর পরিচিত বন্ধুদের নিয়ে চট্টগ্রাম মুসলিম হল-এ আয়োজন করেন আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন যা সে সময়ে দেশবিদেশে সাড়া পড়ে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গরীব-দুখি, শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকতে সচেষ্ট থাকেন।তিনি সবসময় ধর্ম-বর্ণ ও নারীবৈষম্যকে উপড়ে ফেলে একটি অভিন্ন মানবিক বিশ্ব প্রত্যাশা করেন। সে বিষয়ে তাঁর কয়েকটি প্রবন্ধও আছে। তাঁর প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ “কবিতার ক্যাম্পাস” পাঠক মহলে খুবই প্রশংসিত হয়। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “চাঁদমুখে চাঁদহাসি”
শিশুতোষ কাব্য, যার প্রতিটি ছড়া শুধু শিশুদের কেন বড়দেরও মন কাড়তে বাধ্য। “বৃষ্টি আসে দৃষ্টির সীমানায়” কাব্যগ্রন্থটি কবির তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। তাঁর বেশকিছু যৌথ কাব্যগ্রন্থও আছে। এছাড়া, তাঁর বেশ কয়েকটি কবিতার পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায়। তিনি ইতোমধ্যে বেশকিছু গান রচনা করেন। তিনি আমাদের কাছে একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও গীতিকার হিসাবে অধিক পরিচিত। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি “বাংলাকাব্য পরিবার” থেকে ‘কাব্যপথিক’, আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ থেকে সাহিত্যসংগঠক হিসাবে ‘কাব্যরথী’
খেতাবে ভূষিত হন এবং পার্বত্য কাব্য পরিষদ থেকে পার্বত্য কাব্য সম্মাননা লাভ করেন। তিনি বাস্তববাদী লেখক হিসাবে আমাদের কাছে পরিচিত। তাঁর লেখায় প্রেম, দ্রোহসহ সমাজ-সংস্কৃতির বাস্তবরূপ ফুটে ওঠে। এছাড়া, তিনি বিজ্ঞানকে কবিতায় ব্যবহার করে সমাজের নানান কুসংস্কারকে পাঠকের কাছে তুলে ধরেন। সর্বোপরি, তিনি সমাজহিতৈষী, মুক্তচিন্তার অধিকারী ও মানবতাবাদী একজন লেখক। তিনি অনলাইন বিভিন্ন মাধ্যমে ও বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকাসহ সাহিত্য পত্রিকায় লিখে পাঠকের প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেছেন।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২