
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার মিয়া, নুরুল আমিন, বাছির মিয়া ও ছাদেক মিয়া, শুক্কুর মিয়াসহ কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার বুধল থেকে হেফাজত সমর্থকদের একটি মিছিল নন্দনপুর বাজার এলাকায় গেলে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন।
তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইল উপজেলায় মাদ্রাসা ছাত্রদের বের করা বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়েছে।
এতে ক্যাম্পে থাকা সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন, এএসআই জাহাঙ্গীরসহ ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিকেলে উপজেলার অরুরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সরাইল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন জানান, বিক্ষোভ মিছিল থেকে হঠাৎ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্রদের দুই জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সাংবাদিক, ছাত্রলীগ, এলাকাবাসীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
বিকেল ৫টার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ’ নেতাকর্মী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের তাণ্ডবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে মিছিলটি টিএ রোড অতিক্রম করার সময় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
এ সময় শহরের কান্দিপাড়া, মাদ্রাসা রোড, টিএ রোড, কাজি মাহমুদ শাহ রোড, থানা সড়কে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার মাইক থেকে ছাত্রলীগ মাদ্রাসায় হামলা করেছে বলে বারবার ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করে। এ সময় কান্দিপাড়া এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে শহরের প্রধান সড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়। সংঘর্ষে এটিএন নিউজের ক্যামেরাম্যান সুমন রায়, সময় টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান জুয়েলুর রহমান, জেলা তাঁতি লীগ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলাল (৪৮), ছাত্রলীগ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তামিম সাহাব নাবিদ(২৫), ছাত্রলীগ কর্মী সাথী (১৮), আওয়ামী লীগ কর্মী ইব্রাহিম ভূঁইয়া (৫০), যুবলীগ কর্মী আবদুল্লা আল মাহমুদ (২৫) সহ ২০ জন আহত হন। সন্ধ্যার পর পুনরায় শহরের টিএ রোড এলাকায় মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধলে পুলিশ বেশ কিছু টিয়ারশেল ছোড়ে

আরও পড়ুন
বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার উন্নয়ন সেমিনার: সুষম উন্নয়নের আশাবাদ
বদলগাছী উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পথগুলো যেন মরণফাঁদ
ধুনটে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার মামলায় এক আসামি গ্রেপ্তার