
রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গাবতল এলাকায় কয়েক বিঘা ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। আশপাশের এসব জমি থেকে গভীর করে কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি। এতে ফসলি জমিগুলো ভাঙতে শুরু করেছে, হুমকি মুখে পড়েছে সড়ক ও বসতবাড়ি। মরিয়মনগর চৌমুহনী-রানীর হাট সড়ক ও স্থানীয় খলিফা পাড়া সড়কে যাতায়তকারী হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের পথ ঝুঁকির মুখে
থাকায় স্থানীয় মানুষের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান করছেন। সরেজমিন ইসলামপুর ইউনিয়নের গাবতল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শাপলা বিক্সস ও এসএবি নামে দুটি ইটভাটার মাঝে বিশাল আয়তনের ফসলি জমি। ফসল জমিতে মৌসুমী সব্জি ক্ষেত ও ধান ক্ষেত রয়েছে। তাঁর পাশে জমি থেকে গভীর গর্ত করা মাটি নেয়া হয়েছে। গর্ত খনন করে মাটি নেয়ার ফলে আশপাশের ফসলি জমিগুলোও
ভাঙতে শুরু করেছে। গভীর গর্ত করে মাটি কাটার ফলে পাশের খালের পাড় হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় খলিফাপাড়া এলাকার যাতায়াতের মাধ্যম খলিফা পাড়া সড়ক। ওই সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন খলিফা পাড়া এলাকার ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ইটভাটার জন্য জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারনে পাশের সড়ক হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ইটভাটার
মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তবে ফসলি জমি ভাঙতে ভাঙতে এই বর্ষাতেই এই সড়কটিও ধসে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে।” স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদ পারভেজ বলেন, “ এলাকার শাপলা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা ২০ বছর ধরে ইটভাটা চালাচ্ছে। তাঁরা ২০ বছরে আশেপাশের কয়েকশো একর ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি নিয়েছে। ফসলি জমির মাটি নিয়ে ইটভাটা করতে
গিয়ে গভীর করে মাটি খনন করায় আশেপাশের জমিগুলোও ভাঙতে শুরু করেছে। শাপলা ব্রিকস’র মালিক আব্বাস চৌধুরী নিজের ইচ্ছেমতো ফসলি জমি নষ্ট করে ইটভাটাটি চালাচ্ছেন। ” নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ইটভাটার জন্য অনেক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু আমরা অসহায়। ” শাহেদ পারভেজ নামে অন্য এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের আধা কানি ফসলি জায়গা ভেঙে গেছে। আরও আধাকানি জায়গায় ইতিমধ্যেই ফাটল
ধরেছে। এছাড়া অন্তত আরও ১ একর জায়গা ঝুঁকিপ‚র্ণ। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয় ৪-৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক খলিফা পাড়া সড়কও বিলীন হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় আলহাজ্ব আব্দুল করিম জামে মসজিদের মালিকানাধীন প্রায় ১১ কানি জায়গার মাটি ইট ভাটার জন্য গর্ত করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন মসজিদের মোতায়াল্লী। বছরের পর বছর মাটি কাটার এই কর্মযজ্ঞ চলে এলেও এসব অবৈধ ইটভাটার ব্যাপারে নির্বিকার প্রশাসন। এমনকি এসব ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার পর বাংলা চিমনি দিয়ে নতুন করে ইটভাটা
চালানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শাপলা বিক্সস এর মালিক আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জমির লিজ নিয়ে মালিকদের কাছে মাটি কাটার চুক্তি হয়। তবে এলাকার কোন ক্ষতি না হয় মতো করে আমরা মাটি কাটছি।’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাজিব চৌধুরী বলেন, “ সরেজমিন তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, জল্পনার অবসান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
মালায়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী
৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা হবেন রোববার