
এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের মধ্যের চর গ্রামে গত ১৩ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর অটো রিক্সা চালক সুজন মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সুজন মিয়া শিমুলকান্দি ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের সাজিদ মিয়ার পুত্র। উল্লেখ্য যে গত ১৩ ডিসেম্বর ভৈরব থেকে শিমুলকান্দি গামী সড়কের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচরের রাস্তার মোড়ের সিড়ির ঘাটলার নিচে বন্দের মধ্যে থেকে হাত, পা ও মুখ বাধা অবস্থায় মরদেহটি দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধারের পর কিশোরগঞ্জের মর্গে প্রেরণ করে। ওই দিন ভৈরব থানায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
গত ৪ ডিসেম্বর সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলার পিবিআই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৩রা জানুয়ারি রবিবার পিবিআই স্ব-উদ্যোগে পুলিশ পরিদর্শক আজাদ হোসেনের তদন্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার ভিকটিম সুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নাম্বার ট্রেক করে ঢাকার গুলিস্থান আলু বাজার জুতার কারখানা থেকে ওবাইদুল মাসুম (১৯) কে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যমতে কুলিয়ারচরের হাজারি নগর থেকে শাকিল (২০), ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ থেকে ইসমাইল (২১) গ্রেফতার করে পরদিন সোমবার আদালতে প্রেরণ করেন। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুর বারী এর নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মেূল জবানবন্দিতে তারা ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করেন।
আসামী ওবায়দুল ওরফে মাছুম কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানার ছয়সূতি ইউনিয়ন নোয়াগাও গ্রামের আবুল কালাম মিয়ার পুত্র, শাকিল একই ইউনিয়নের হাজারী নগর গ্রামের দুধু মিয়ার পুত্র ও ইসমাইল একই ভৈরব থানার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের খাসহাওলা গ্রামের ইয়াকুব মিয়ার পুত্র বলে জানায় কিশোরগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক আজাদ হোসন।
পিবিআই জানায়, ওবায়দুল মাসুম, ইসমাইল, শাকিলসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন আসামী সমবয়সী তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক বা কিশোর গ্যাং রয়েছে। আসামীগণ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন খুনের সাথে জড়িত রয়েছে বলেও জানায়। গত ১২ ডিসেম্বর মধ্যেরচর নামক জায়গায় রাতে একত্রিত হয়ে একটি মাছের পিকআপ/ট্রাক থামিয়ে ডাকতি করার পরিকল্পনা করেছিলো আসামিরা। পরিকল্পনা মোতাবেক রাতে মাছের কোন ট্রাক/পিকআপ না আসায় উক্ত আসামীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ভোরে ভিকটিম সুজন ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বিভাটেক নিয়ে মধ্যেচর গ্রাম হতে শিমুলকান্দি যাওয়ার সময় বিভাটেক থামিয়ে যাত্রী বেশে সুজনের গাড়ীতে উঠে। মধ্যেরচর ঘাটলার নিকট আসার পর আসামীরা ভিকটিমকে অটোরিক্সা থামাতে বাধ্য করে।
আসামীগণ ভিকটিমকে জোর করে ঘাটলার সিঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে সুজনের পড়নের লুঙ্গি খুলে লুঙ্গি টুকরা টুকরা করে ভিকটিম সুজনের হাত, পা, মুখ বেধে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। হত্যার পরবর্তীতে ভিকটিম সুজনের লাশ গোপন করার জন্য সিঁড়ির নিচে রেখে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবতর্তীতে উক্ত আসামীগণ অটো রিক্সাটি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর নিকট বিক্রয় করে দিয়ে উক্ত টাকা আসামীরা ভাগ করে নেয়। ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আসামী ওবাইদুল ওরফে মাসুম নিজে ব্যবহারের জন্য নিয়ে নেয়। উক্ত আসামী ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সীম ফেলে দিয়ে নিজের সীম সংযুক্ত করে ব্যবহার শুরু করে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক