হোম » প্রধান সংবাদ » আ’লীগে ঠাই হলোনা বঙ্গবন্ধুর ছবি পোড়ানো মামলার ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামীদের

আ’লীগে ঠাই হলোনা বঙ্গবন্ধুর ছবি পোড়ানো মামলার ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামীদের

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আ’লীগে ঠাই হলোনা বঙ্গবন্ধুর ছবি পোড়ানো মামলার ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানসহ তার অনুসারী আসামীদের। উল্লেখ্য যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর ও পোড়ানো মামলার প্রধান আসামি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের ৭নং হাজিপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানসহ তার লোকজন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন গত  (২৫ নভেম্বর ) বুধবার উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের খটশিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক বিশেষ কর্মীসভায়।
সাবেক এমপি ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক তাদের (সিদ্দিকুর) সহ তার অনুসারীদের গলায় ফুলের মালা পড়িয়ে আওয়ামী লীগে বরণ করে নেন।  তবে গত ১৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের এক প্রেস বিঞ্জপ্তিতে বলা হয়েছে যে, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পুরানো ও নৌকা প্রতীক ভাঙচুর মামলার (প্রধান) আসামি সিদ্দিকুর রহমানসহ তাঁর সমর্থিত লোকজনকে নিয়ে,গত ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জ উপজেলার ৭নংহাজীপুর ইউনিয়নের খটসিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এক বিশেষ কর্মীসভায় জাতীয় পার্টির বর্তমান সভাপতি সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানসহ বেশ কিছু জাতীয় পার্টির ও বিভিন্ন দলের লোকজন আওয়ামী লীগে  যোগদান করেছিলেন।
আওয়ামী লীগে যোগদানের খবরটি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা সহ প্রকাশিত হয়। খবরটি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিগোচরে আসে। তৎপ্রেক্ষিতে  কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাদেক কুরাইশী ও সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায় উক্ত (প্রধান) আসামি সিদ্দিকুর রহমান সহ ও তাঁর লোকজনদের যোগদান বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন।
আরও উল্লেখ্য যে,  ২০১২ সালে বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টিতে আসা সিদ্দিকুর রহমান ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়নাল আবেদিনকে পরাজিত করে জাতীয় পার্টি থেকে হাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে নির্বাচনী নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ২৬ এপ্রিল নির্বাচনী এলাকায় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ঘোড়ারগাড়িতে যোগে বিজয় মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিদ্দিকুর রহমান নিজে। মিছিলটি নির্বাচনী এলাকার সিংগারোল-দহগা নামক স্থানে পাকাসড়কে পৌঁছলে সেখানে নির্মিত নৌকা প্রতীক সমবলিত তোরণ ভাংচুর করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত গেটটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে মারপিট, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ২৭ এপ্রিল পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ভাই জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে সিদ্দিকুর রহমানসহ ১০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় দ্রুতবিচার আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুরসহ ১১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৬ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সিদ্দিকুর রহমান চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।  এ সময় ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন সিদ্দিকুর এবং স্বপদে বহাল হন তিনি। শুনানি শেষে মামলাটি বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে পাঠিয়েছেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
এ অবস্থায় হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ করেন সিদ্দিকুর। এতে নিম্ন আদালতে আবারও থেমে যায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম। বর্তমানে বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য রয়েছে। এ ব্যাপারে ৭নং হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন,আমি আওয়ামীলীগকে সমর্থন করি আমি আওয়ামী লীগের কোন পদে নেই। এ বিষয়ে আমি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ থেকে কোন চিঠি পায়নি।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুল ইসলাম বলেন,তারা স্বার্থের জন্য কখনো বিএনপি কখনো জাতীয় পার্টি কখনো  আওয়ামীলীগে যোগদান করছে। আমরা আওয়ামীলীগে তাদের কি স্বার্থে যোগদান করে নিচ্ছি কেন নিচ্ছি এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখার অনুরোধ করছি।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!