
জাহেদুর রহমান সোহাগ, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ বর্ষা মৌসুমে আমন ধানের আবাদের পর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে ৩০০ একর জমি চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর ও কুলকুরমাই গ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত টিব্বা বিল, মগ বিল, খিয়াং বিলসহ আশেপাশের এসব বিল সংশ্লিষ্টদের গাফলতির কারণে শুস্ক মৌসুমে প্রতি বছর বিলগুলো অনাবাদি থেকে যায় অভিযোগ কৃষকদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলগুলোর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুলকুরমাই খাল ভরাট হয়ে গেছে। খালেপানি নেই। পানি না থাকায় চাষাবাদের জন্য থাকা দুটি স্কীম (সেচযন্ত্র) ঘর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। রোয়াজারহাট খালের প্রবেশ মুখেই সুইচ গেইট দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে ইছামতী নদী থেকে কুলকুরমাই খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না।
খালের বিভিন্ন স্পটে অপরিকিল্পত পাকা স্থাপনা নির্মাণ, আশেপাশের বসতবাড়ির বর্জ্যে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে কুলকুরমাই খালটি। এর বাইরেও গুমাইবিল থেকে পশ্চিমে অন্তত ৫ কিলোমিটার কুলকুরমাই খাল ভরাট হয়ে গেছে। একই অবস্থা পাশের চেংখালী খালেও। ফলে পৌরসভার মুরাদনগর ও কুলকুরমাই গ্রামের আশেপাশের ৩০০ একর জমি খরা মৌসুমে প্রতিবছর অনাবাদি থেকে যায় বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।জরুরী ভিত্তিতে খালের খননসহ সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের দাবী জানিয়েছেন সাধারণ কৃষকরাও।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বোরো মৌসুমের শুরুতে টিব্বা বিল, মগ বিল, খিয়াং বিলসহ আশেপাশের বিলের কৃষকদের পানির জন্য হাহাকার করতে হয়। অথচ কৃষকদের সুবিধার্থে মওসুমের শুরুতে বিলের পার্শ্ববর্তী কুলকুরমাই খালে আশেপাশের বিভিন্ন নদী থেকে পানি সরবরাহ করা এবং বিভিন্ন স্কিম ম্যানেজারদের সহায়তায় কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু গুমাই বিলের সাথে সংযুক্ত এই কুলকুরমাই খাল অধিকাংশ ভরাট হয়ে গেছে।
এছাড়াও এসব খালের পাড় ভাঙন, খালের গতিপথ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সহ বিভিন্ন কারণে বোরো মৌসুমে খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া এই খালের রোয়াজারহাট অংশে বিকল সুইচ গেইটের যথাযথ তদারকির অভাবে এসব বিলে প্রতি বছর অনাবাদি থাকে ৩’শ একর জমি। এভাবে বছরের পর বছর এসব বিল অনাবাদী থাকলেও এই নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটি পওর বিভাগের আওতাধীন এই জমি নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই।
কুলকুরমাই খালের স্কীম ব্যবস্থাপক ছৈয়দুল হক চৌধুরী বাদশা বলেন, “গুমাই বিল থেকে কুলকুরমাই খালের প্রবেশ মুখেই ভরাট হয়ে গেছে। পশ্চিমে ইছামতী থেকেও প্রবেশ মুখেই একটি সুইচ গেইট বছরে পর বছর বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এর ফলে খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না। তাই অন্তত গুমাই বিল থেকে শুরু করে খালের ৫ কিলোমিটার অংশ খনন করা এবং বিকল সুইচ গেইট মেরামত করে খালে পানির স্বাভাবিক গতিপথ সচল হবে। না হলে দিন দিন অনাবাদী জমির পরিমাণ বাড়বে এবং কৃষকরাও চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।”
পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশন ইছামতি ইউনিটের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কুরকুরমাইখাল ইছামতি নদীর শাখা। ৮০ দশকে খালটি খনন করা হয়েছিল। এই খালে স্কিম মেশিন বসিয়ে সেচ কাজ করা হয়। খালটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় আশেপাশের বিলের সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।’
বিএডিসি’র (কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) চট্টগ্রামের সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ দাশ গুপ্ত বলেন, “খরা মৌসুমে অনাবাদি জমিগুলোকে আবাদের আওতায় আনতে আমরা উপজেলা পর্যায়ে কমসূচি বাস্তবায়নে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দে চেয়ে আবেদন করেছি। এরবাইরেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের জন্য আলাদা আরও একটি কর্মসূচি চাওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে এর আওতায় রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন খাল খনন, কালভার্ট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে অনাবাদী জমিগুলোকে আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। আগামী অর্থ বছরেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

আরও পড়ুন
বগুড়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি: প্রার্থী রনি গ্রেপ্তার
লালমোহনে বাস চাপায় প্রাণ গেল শিশুর
মির্জাপুরে মারধর ও ধর্ষণের ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু