
এম.এ রাশেদ, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনায় সম্মেলন ভন্ডুল হয়ে গেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের জাঙ্গালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, আগামী ১৮ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এজন্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন জাঙ্গালপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজবাউল হক স্থানীয় ওর্য়াড কমিটির সভাপতি হিসেবে বাবলু সরকারের নাম প্রস্তাব করে।
অপরদিকে স্থানীয় ময়দানহাট্টা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপম ইউসুফ আলীকে সভাপতি করার প্রস্তাব করেন। এই নিয়ে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে মঞ্চের চেয়ার ছোরাছুরি, চেয়ার ভাঙচুর, লাঠি-সোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। ফলে সম্মেলন ভুন্ডুল হয়ে যায়। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১১ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
আহতরা হলেন মেজবা গ্রুপের আছালত জামান, সুজন মাস্টার, আব্দুস সালাম তোতা, বিষে, বাবলু সরকার, ইউসুফ আলী। ইউপি চেয়ারম্যান গ্রুপের খলিলুর রহমান, রায়হান আলী, খোকন ইসলাম, রকি মিয়া, আবুল হোসেন।
এবিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজবাহুল হক মেজবা বলেন, অন্য ওয়ার্ডের কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে চেয়ারম্যান সমর্থকরা হঠাৎ মারমুখী আচরণ করায় সম্মেলন ভুন্ডুল হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপম বলেন, সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সমর্থনে নেতা নির্বাচিত হওয়ার কথা, কিন্তু কমিটি গঠনে অনিয়ম হওয়ায় আমার সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপম কৃষকলীগের নেতাকর্মী ও বহিরাগত লোক নিয়ে এসে এ ওয়ার্ডের নেতা নির্বাচিত করার অযৌক্তিক দাবি জানান।
তাতে আমি স্বীকৃতি না দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার গাড়ীর সামনে শুয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক বলেন, সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাক বিতন্ডতার কারণে সম্মেলন ভুন্ডুল হয়ে যায়। শিবগঞ্জ থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২