হোম » প্রধান সংবাদ » রাঙ্গুনিয়ায় ধান কাটা নিয়ে বেকায়দায় কৃষক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ

রাঙ্গুনিয়ায় ধান কাটা নিয়ে বেকায়দায় কৃষক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ

জাহেদুর রহমান সোহাগ,রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ মাঠজুড়ে এখন আমন ধানের সবুজ গালিচা। লকলকিয়ে বেড়ে উঠেছে সর্বত্রে। অনেক ক্ষেতের ধান গোছে এসেছে পরিপূর্ণ থোর। এরই মধ্যে কোন-কোনো ধানের শীষে দুধ এসেছে। আবার কোন-কোন ধানের শীষ আধাপাকাও হয়ে গেছে। পরিপক্ক ধান কাঁটতে ব্যস্ত কিছু কৃষক। বড়জোর সপ্তাহখানেক পরেই কষ্টে অর্জিত সোনালী ধান চাষিদের ঘরে উঠা শুরু হবে। ধান বিক্রির টাকা থেকে আগামী দিনে সংসারে নানা উন্নয়ন কাজের স্বপ্ন বুনে রেখেছে অনেকেই। বৈরী আবহাওয়ার কারনে বেকায়দায় পড়ে এবার আমন ধানও ঘরে উঠাতে বেশ বেগ পোহাতে হবে এইসব স্বপ্ন দেখা কৃষকদের।

চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চলতি আমন চাষ মৌসুমে ১৪ হাজার ৯০৮ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা
নির্ধারণ করা হলেও চাষ শেষে দেখা গেছে এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ
করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৪০২ হেক্টর বেশি। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার ২ হেক্টর ক্ষতি হলেও আবাদকৃত জমিতে
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাল উৎপাদন হবে বলে কৃষি কর্মকর্তরা আশাপোষণ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সা¤প্রতিক বর্ষায় এ উপজেলার কৃষকের রোপা আমন ধানসহ নানা জাতের ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছিলো। সেই ক্ষতি পুশিয়ে নিতে নতুন করে জমিতে আমন ধান রোপন করেন। ক্ষেতে বেড়ে উঠা সেই ধান গাছে নানা রোগ বালাই আক্রমন করে। বিশেষ করে পাতা মোড়ানো রোগ, মাসি পোকার আক্রমন ও ইদুরের উপদ্রবে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশংকা মাথায় নিয়ে ফসল রক্ষার রিতীমত যুদ্ধে নেমেছিল কৃষকেরা। এতে অনেকটাই সফল হলেও দুই সপ্তাহের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে দমকা বাতাসের বৈরী আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাব পড়েছে আমনের ক্ষেতে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিন রাজানগর ইউনিয়নের কৃষক মহব্বত আলী জানান, বৃষ্টি পরিবর্তি সময়ে ধানক্ষেতে নানা রোগ বালাই আক্রমন করে। কীটনাশক প্রয়োগে ধানের রোগ বালাই দমন করা হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি আর দমকা বাতাসের ক্ষতি থেকে ধানক্ষেত রক্ষা করা সম্ভব হলো না। এবার আমন ধানে আশানুরুপ ফলন হয়তো পাবোনা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, ক্ষেতের ধান গাছ হেলে পড়ে থাকলে কিছুটা ক্ষতি তো হবেই। তবে বিশেষ করে যে সব ধানের শীষ অপরিপক্ক রয়েছে, সে গুলোর ক্ষতি হবে। ক্ষতির পরিমান ২ হেক্টর। পরিপক্ক ধান কাটার উপদেশ দেন তিনি। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সব চেয়ে বেশী ক্ষতির আশংকা রয়েছে বিভিন্ন জাতের সবজিক্ষেতের।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!