হোম » প্রধান সংবাদ » সিরাজগঞ্জে মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

সিরাজগঞ্জে মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কালীবাড়ী গ্রামের রুপছায়াগলির মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।  অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা উপেক্ষা করে গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামারটি স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিরাজগঞ্জ পৌর মেয়র ও সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে গ্রামবাসী।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে কালীবাড়ী গ্রামের রুপছায়াগলির ভিতরে অনের জায়গা দখল করে আলী হোসেন ও তার ছেলে মো: ফুয়াদ হাসান (তানিম) গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মুরগির খামার স্থাপন করেন। বর্তমানে খামারে প্রায় ৭শত মুরগি রয়েছে। মুরগির বিষ্ঠার কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

বিষ্ঠার দুর্গন্ধে খামারের চারদিকে মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হয় এমন স্থানে খামার স্থাপন করা যাবে না।

মঙ্গলবার সকালে কালীবাড়ী গ্রামের রুপছায়াগলিতে গিয়ে দেখা যায়, খামারটির আশপাশে মুরগির বিষ্ঠা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। খামারের চারপাশে বসতবাড়ি। এসব বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলীর ছেলে মো: আলী বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই খামার। বিষ্ঠা থেকে সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। আশপাশে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হয় এমন স্থানে মুরগির খামার স্থাপন করা যাবে না। এমন নির্দেশনা থাকলেও তা না মেনে কালীবাড়ী গ্রামের রুপছায়াগলির আবাসিক এলাকায় ফার্ম স্থাপন করা হয়েছে।

এতে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং বিষ্ঠার দুর্গন্ধে খামারের চারদিকে মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। মো: শাহীন হোসেনের স্ত্রী মোছা: পাভীন বেগম, হাসানের স্ত্রী শাজেদা বেগম, কোরবান আলীর স্ত্রী মোছা: ফাতেমা বেগম, আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জাকির হোসেন, নুরুল হক মুন্সির মেয়ে কনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে খামারটি সরানোর জন্য গত ১ বছর ধরে পৌর মেয়র,

সদর থানার কর্মকর্তা ও ইউএনও’র কাছে অভিযোগ দিয়েছিল গ্রামবাসী। তারা ব্যবস্থা নেননি। খামারটি স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত খামারের বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেই। খামারটি স্থাপনের ক্ষেত্রে জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০০৮ মানা হয়নি।

খামার মালিক মো: ফুয়াদ হাসান (তানিম) বলেন, এর আগে এমন অভিযোগ এলাকাবাসী অনেক দিয়েছে পুলিশও এসেছে ছিলো আমি কিন্তু খামার চালিয়ে যাচ্ছি এখন আর কোন অভিযোগ দিয়ে লাভ হবেনা। তাছারা খামারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে যাতে দুর্গন্ধ কম ছড়ায়।

বায়তুল ম.মিন জামে মসজিদ এর সভাপতি মো: মুন্সি গোলাম মোস্তফা বলেন, মসজিদ কমিটি ও ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: বেলাল হোসেনসহ এলাকার গণম্যাণ বাক্ত্যিবর্গ নিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে খামারটি অপসারণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু খামারের মালিক তা মানেননি। এবং সিরাজগঞ্জ পৌর মেয়র এর কাছে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে।  জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান ভূইয়া বলেন, নীতিমালা উপেক্ষা করে খামার স্থাপন করা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!