হোম » প্রধান সংবাদ »  শ্রম বিধিমালা‘ ২০১৫ সংশোধন পূর্বক শ্রম বান্ধব বিধিমালা করার দাবীতে শ্রমিক সমাবেশ ও র‌্যালি

 শ্রম বিধিমালা‘ ২০১৫ সংশোধন পূর্বক শ্রম বান্ধব বিধিমালা করার দাবীতে শ্রমিক সমাবেশ ও র‌্যালি

সৈকত চৌধুরীঃ  অদ্য ১৭/১০/২০২০ইং তারিখ সকাল ১০.৩০ ঘটিকার সময় জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকায় সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা‘ ২০১৫ সংশোধন পূর্বক শ্রম বান্ধব করার দাবীতে শ্রমিক সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত
হয়। শ্রমিক সমাবেশ ও র‌্যালিতে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর সংগ্রামী সভাপতি জনাব
নাজমা আক্তার।

বাংলাদেশ শ্রম আইন‘২০০৬ এর সর্বশেষ সংশোধন গত ১৪ নভেম্বর ২০১৮ সালে এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা হয় ১৫
সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে আজ ১৭/১০/২০২০ইং আমরা দেখতে পাই বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা এখনো সংশোধন করা হয়
নাই। বর্তমান শ্রম আইনের সাথে শ্রম বিধিমালার অনেক পার্থক্য আছে। যার ফলে শ্রমিকরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে
বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্তহচ্ছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শ্রম বিধিমালা সংশোধন করার জন্য সরকারের কাছে শ্রমিক সংগঠন গুলো
দাবী পেশ করলে সরকার শ্রম বিধিমালা সংশোধন করার জন্য কমিটি গঠন করে সময় ক্ষেপন করছে। যার ফলে মালিক
শ্রেনী শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য ফন্দি ফিকির করছে।

\সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জনাব নাজমা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করার জন্য
বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন মালিকগন এটা নতুন নয়, শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রম আইনটি কে কালো
আ্ইনে রুপান্তর করেছে, বঞ্চিত করেছে শ্রমিকদের অধিকার, চাকুরীর নিরাপত্তা, সুযোগ সুবিধা, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার
অধিকার, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, বিধিমালা সংশোধন না করার ফলে শ্রমিকরা আরো বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফলে শ্রমিকরা
অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সময় ক্ষেপন না করে অনতি বিলম্ভেবাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধন করে গেজেট আকারে
ঘোষনা করার জোর দাবী করা হয়।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক জনাব নাহিদুল হাসান নয়ন বলেন, শ্রম আইনে এখনো অনেক
অসংগতি আছে, ২০০৬ পর যতবার আইনটি সংশোধিত হয়েছে ততবার শ্রমিকদের অধিকার কমানো হয়েছে। যখন কোন
আইন প্রণয়ন হয় বা সংশোধন হয় তখন দেখতে হয় শ্রমিকদের অবস্থা কতটুকু উন্নয়ন করা যায়, কিন্তু আমরা দেখতে পাই
প্রতি সংশোধনে শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত বা বঞ্চিত করা হয়েছে। গণত্রান্তিক শ্রম আইন এখন সময়ের দাবী, আইনের কালো
ধারা গুলো বাতিল করতে হবে যেমন ধারা (২৭) ৩ক, ধারা (২৩) ৪ এর (খ, ছ)সহ বিভিন্ন ধারা সংশোধন প্রয়োজন এবং
শ্রমিক বিরোধী কালো ধারা সমূহ বাতিল করে শ্রম আইন সংশোধন করার জোর দাবী করা হয়।

সমাবেশে শ্রম বিধিমালা ও শ্রম আইন সংশোধন করার জন্য বক্তারা নিম্নে দাবী তুলে ধরেন:

১) ট্রেড ইউনিয়ন রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া কে সহজিকরণ করতে হবে, রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স এর রেজিষ্ট্রেশন
প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ইউনিয়ন রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য সহযোগীতা করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
২) মহামান্য হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কল-কারখানায় যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ করার জন্য
‘‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’’ গঠন করার বিধান শ্রম বিধিমালায় অর্ন্তভূক্ত করতে হবে। যাহা পরে শ্রম আইনে
অর্ন্তভূক্ত করতে হবে।
৩) কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ৪০ কিলোমিটারের পরিবর্তে ০৮ কিলোমিটার করতে হবে।
৪) দুই ঈদে ২টি মোট মজুরীর সমান উৎসব বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৫) বাৎসরিক ছুটি হিসাবের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ছুটির দিন গুলোকে কর্মদিবস হিসাবে গননা করে বাৎসরিক ছুটি প্রদান
করার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬) চাকুরী হইতে যে কোন কারনে বরখাস্ত হলে প্রতি পূর্ণ বছর কাজের জন্য ১৫ দিনের মজুরী প্রদান করার ব্যবস্থা
করতে হবে।
৭) বাংলাদেশ শ্রম আইন‘২০০৬ এর ধারা (২৩) ৪ এর (খ, ছ) ও ধারা (২৭) ৩ক বাতিল করতে হবে।
৮) বাংলাদেশ শ্রম আইন‘২০০৬ এর ধারা (৪৬) এর ১ সংশোধন করে সকল নারী শ্রমিকদের জন্য ৬ মাস
মাতৃত্বকালিন ছুটি ও সুবিধা প্রদান করতে হবে।

সমাবেশে সংহতি বক্তব্য রাখেন জনাব বাহারানে সুলতান বাহার, সভাপতি-জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন,
জনাব সুলতানা বেগম, সভাপতি-গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জনাব মাহাতাব উদ্দিন সহিদ, সভাপতি-জাতীয়
গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ, জনাব শামীমা শিরিন, সভাপতি-বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশন,
জনাব ইয়াসিন আহম্মেদ রুবেল, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক- বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন। উক্ত সভায় আরো
উপস্থিত ছিলেন, মমতাজ বেগম, কার্যকরী সভাপতি, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, সৈকত চৌধুরী, ইয়াহিয়া
খাঁন, শরিফোন নেছা, তারেক আহম্মেদ, নুরুল ইসলাম, মুনিরা আহম্মেদ উর্মি, মনিরুল ইসলাম, রিনি আক্তার, একরামূল
হক, আলমগীর হোসেন, ফরিদ মিয়া, আশিদ মিয়া, শেখ রুবেল, নাজমা বেগম, উর্মি আক্তার, হালিমা বেগম, মদিনা
বেগম, আঃ হালিম, নীলা সরকার, সানজিদা, আনিকা, সুবরনা, তপু, হাকিম, লালচান, হাবিবুর রহ্হমান সুমনসহ আরো অনেকে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!