
এম.এ রাশেদ বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই প্র্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা অনিয়ম- আত্মসাত আর দূর্নীতির বিচার দাবী করে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও মাউশি ডিজি শিক্ষা এবং দুদক বগুড়া কার্যালয় বরাবরে অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী।
জানাযায়,বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উভয় দিকে বিদ্যালয়টি উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়। শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এলাকার দানশীল মানুষের মূল্যেবান জমি দানের মধ্যদিয়ে। তদের মাঝে উল্লেখ যোগ্য মোসলেম উদ্দিন সরকার,তছির উদ্দিন তালুকদার, আব্দুল গণি তালুকদার, আজিমুদ্দিন আকন্দ প্রমূখ। যুগে যুগে ছোনকা হাইস্কুলের নিজস্ব সম্পদ বেহাত হয়েছে প্রায় ২০-থেকে ৩০ কোটি টাকার ওপরে।
প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্যদের মতে, বিগত দিনের সকল সময় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আর প্রধান শিক্ষক মিলে এ সকল অনিয়মের মূল হোতা হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমান সময়ে স্কুলের নিজস্ব সীমানার ওপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিনে চলমান বর্ধিত ফোরলেন হাইওয়ে সড়কটিতে স্কুলের প্রায় ১৫ শতক জমি অধিগ্রহন করে। এরপর স্কুলের জমির ক্ষতিপুরুনের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে কমিটির বিরুদ্ধে। ছোনকা জামে মসজিদের জন্য দেয়া সরকারি ক্ষতি পুরুনের টাকা সহ ব্যবাসায়ীদের পজেশন হস্তান্তরের এককোটি উননব্বই লাখ টাকা আদান প্রদানের হিসাব নিয়ে ২০১৮ সালের গোড়ার দিকে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়।
অপরদিকে ছোনকা স্কুলের বাউন্ডারী সীমানার বাহিরের নিজস্ব জমি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ফুট ভিত্তিক প্রায় ৪৫ বছর আগে থেকে লীজ দেয়া হয়। সেখানে থাকা ভাড়া বা লীজের শর্ত মানেন না কোন ব্যবসায়ী। অনেকেই মাত্র পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকা মাসের ভাড়া স্কুলে প্রদান না করেই ওই সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে লাখ লাখ টাকায় পজেশন ও দখল বিক্রি করে চলেছেন। সেখানে স্কুলের জমির ওপরে শ্রেনী পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে । এ সকল হাজারো অনিয়মের কোন বিধি ব্যবস্থা না থাকায় স্কুলের নিজস্ব প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হতে চলেছে। ছোনকা স্কুলের নিজস্ব সম্পত্তির ওপরে খেলার মাঠে এখন সাপ্তাহিক গরুর হাট বসে। এক কোনে সরকারি হাসপাতাল, এর মাঝে আছে কাঠের ছ‘মিল,হাট বাজার এবং বিভিন্ন ফোনের টাওয়ার ও হাটের সেড।
স্থানীয়দের মতে ছোনকা স্কুলের সম্পত্তি হরিলুট হলেও দেখার কেউ নাই। অভিযোগে উঠে এসেছে, ইটালী গ্রামের জনৈক শহীদ মাষ্টার মহাসড়ক সংলগ্ন পশ্চিমে স্কুলের একাধিক দোকান ঘরের জমি বার্ষিক ভাড়ায় লীজ নিয়ে সেখনে গড়ে তুলেছেন বহুতল মার্কেট। আবার শর্তভঙ্গ করে ওই জমি ওয়ালটন কোম্পানীকে শোরুমের জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে উচ্চ দামে। পাশের রাজবাডী মিষ্টান্ন ভান্ডার এর সত্তাধিকারী উত্তম কুমার অধিকারী একটি ঘরের পজেশন দশ বছর আগে কিনেছেন মাত্র ছয়লাখ বিশ হাজার টাকা দিয়ে। আর পাশের আমজাদের নামে লীজ নেয়া একটি দোকানের ভাড়া মাসে ছয় হাজার টাকা। সেখানে স্কুলের পাওনা মাসে ৭শ টাকা নিয়মিত পরিশোধ হয় না।
একই ভাবে ছোনকা মৌজার ২৫,৪৭,৫২ ও ৫৩ দাগ সহ অসংখ্য দাগের জমির ওপরে শর্ত ভেঙে আরও বহুতল বিল্ডিং করেছেন, সুলতান হোসেন, বুলবুল ইসলাম, আবু সাঈদ, শাওন সহ অনেকেই। গত ২৭ জুলাই ছোনকা এলাকার মো. আনারুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আয়নাল হক, খোরশেদ মিয়া, সোহেল রানা,মো. রাকিব হোসেন মিলে এমন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগের বিষয় নিয়ে কথা হয় স্কুলের সভাপতি ফেরদৌস জামান মুকুল এর সাথে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে আমি প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিদায়ী কমিটির সভাপতি মৃদুলের কাছে স্কুলের হিসাব দাবী করায় মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আমাকে আর হিসেব দেয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক এস,এম, রশিদুল আলম এর সাথে বার বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, ছোনকা স্কুলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ দিনে দিনে লোপাট হলেও দেখার কেউ নেই। অপরদিকে বিপিএড শিক্ষক হয়ে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদে ভূল তথ্য দিয়ে চাকরী নিয়ে প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম সীমাহীন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়লেও এখনও কোন প্রকার সুষ্ঠ তদন্ত হয়নি। এলাকাবাসী এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত দোষি ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২