হোম » প্রধান সংবাদ » ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে সিএনজি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে সিএনজি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে গরীব ও অসহায় সিএনজি চালকদের নিকট থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার সিএনজি চলাচল করে থাকে। বেকার অসহায় দরিদ্র পরিবারের যুবকরা এই সড়কে সিএনজি চালিয়ে তাদের সংসার চালায়।অনেকে ভাড়া করা সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে । সিএনজি চালকদেও পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক চালক গতকাল
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করে।

 

অভিযোগে বলা হয় কালিকাপ্রসাদ এলাকার স্বপন মাহমুদ, শহিদুল ও মিজান নামের এই তিন ব্যক্তি “মালিক ভরসা সিএনজি-অটোরিক্সা শ্রমজীবি সংগঠন” এর নামে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী কয়েকশ সিএনজি থেকে রোড পারমিটের নামে মাসিক ৪০০/৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। এতে তারা সংগঠনের নামে প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে। চালকরা চাঁদা না দিলে হাইওয়ে পুলিশের ভয় দেখায় এবং পুলিশকে দিয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানায় গাড়ী নিয়ে আটক করে রাখে। তারপর পুলিশকে ৫ থেক১০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ী ছাড়াতে হয়।

 

তবে হাইওয়ে পুলিশ টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। সিএনজি চালকরা মাসিক চাঁদা না দিলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। স্বরেজমিনে অভিযুক্ত স্বপন মাহমুদ ও শহিদুল্লাহর কথা কথা বললে জানায় যে, তারা কোন প্রকার চাঁদা আদায় করে না। এমন কি কোন রোড পারমিটের নামে কোন মান্থলীও তুলে না। শ্রমিকরা ঐক্য বদ্ধ হয়ে চলার জন্য তারা এই সংগঠন করেছে বলে তাদের দাবী। কিন্তু অপর দিকে কালিকাপ্রসাদের সিএনজি চালক মোঃ বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন গতকাল ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার চলতি পথে স্বপনের সাথে দেখা হলে সে হাইওয়ে থানাকে ম্যানেজ করার নামে মান্থলী দাবী করে। হাইওয়ে থানার ওসির সাথে গোপন আতাত রয়েছে বলেও জানায় স্বপন। মান্থলী থাকলে হাইওয়ে থানা পুলিশ গাড়ি ধরবে না, আর মান্থলী না করা থাকলে গাড়ি আটকিয়ে থানায় নিয়ে যাবে এবং পরে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে হবে বলেও হুমকি দেয় স্বপন।

 

কালিকাপ্রসাদের নিরীহ সিএনজি চালক আবুল কাসেম অভিযোগ করে বলেন, যেসব গাড়ি গুলো মান্থলী করা থাকে না, সেগুলো কৌশলে হাইওয়ে পুলিশ দিয়ে আটক করে থানায় পাঠানো হয়। পরে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে তা ছাড়িয়ে আনতে হয়। এবিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মামুন রহমান বলেন, শুধু সিএনজি নয় ভৈরবে পরিবহনে কোন প্রকার চাঁদাবাজির কোন খবর এখন পর্যন্ত নাই।

আমি যতটুকু জানি ভৈরবেচাঁদাবাজি টোটালী বন্ধ। এরপরও যদি কারো বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ কেউ করে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মোঃ শাহিন বলেন গতকাল এমন একটি অভিযোগের অনুলিপি আমি পেয়েছি।

তবে এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা জানান, সিএনজি চালকদের পক্ষ থেকে আমি চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও হাইওয়ে থানার ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেছি এবং অনুরোধ করেছি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তবে অভিযোগকারী সরাসরি থানার সাথে যোগাযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা সম্ভম।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!