হোম » প্রধান সংবাদ » রাবিতে শেষ শ্রদ্ধা পাচ্ছেন না এন্ড্রু কিশোর!

রাবিতে শেষ শ্রদ্ধা পাচ্ছেন না এন্ড্রু কিশোর!

রাবি প্রতিনিধিঃ এক সপ্তাহ আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলা গানের মহারাজ এন্ড্রু কিশোর। মৃত্যুর পর কী কী করতে হবে সব পরিকল্পনা নিজেই করে গেছেন তিনি। এখন চলছে তারই বাস্তবায়ন। তবে পরিবর্তন আনা হয়েছে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে। সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। আর এটাই ছিল শিল্পির শেষ ইচ্ছা। কিন্তু এতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সদ্য প্রয়াত এন্ড্রু কিশোরের বড় বোনের স্বামী ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই সকালে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে নিয়ে সরাসরি সিটি চার্চে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে পাশেই থাকা খ্রীস্টিয়ান কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। তবে কেন এই পরিবর্তন সে বিষয়ে কিছু জানাননি ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস।
এদিকে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ছুটে এসেছেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে সপ্তক। আর অস্ট্রেলিয়া থেকে রাজশাহী এসে পৌঁছেছেন তার মেয়ে এন্ড্রু সংজ্ঞা। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহর থেকে সোমবার সকালে ঢাকা হয়ে রাজশাহী ফিরেছেন তিনি।
বাবা এন্ড্রু কিশোরের যে ছবি বাঁধাই করেছিলেন সেই ছবি বুকে নিয়েই রাজশাহী ফিরেছেন সংজ্ঞা। রাজশাহী ফেরার পর বাবার সেই ছবি জড়িয়ে কাঁদছেন বাড়িতে। বাবার শেষ বিদায়ের জন্য নিজেই তৈরি করে এনেছেন শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ব্যানার।
রাজশাহীর সার্কিট হাউস ও কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে খ্রীস্টিয়ান কবরস্থানে শায়িত হবেন এন্ড্রু কিশোর। কবরস্থানে ঢুকেই বাম পাশের একটি স্থান তার পছন্দ। জায়গাটি তিনি আগেই দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। সে অনুযায়ী সমাধির স্থান প্রস্তুত হচ্ছে। এই কবরস্থানেই সমাহিত হয়েছেন শিল্পীর বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মা মিনু বাড়ৈ।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই গায়ক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮০ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা চলে আসেন। বরাবরই শত ব্যস্ততার মধ্যে ছুটে যেতেন তার প্রিয় শহরে। কোনো আয়োজনে ডাক পড়লেই ছুটে আসতেন।
প্রসঙ্গত, গেল বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যান্সারে (নন-হজকিন লিম্ফোমা) আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। দীর্ঘ ৯ মাস চিকিৎসাধীন এন্ড্রু কিশোর ১১ জুন রাতে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। তারপর মিরপুর বাসায় থাকার পর রাজশাহী নিজ গ্রামে চলে যান। তারপর থেকে সেখানে তার বোনের বাসা সংলগ্ন ক্লিনিকেই ছিলেন। সবাইকে কাঁদিয়ে ৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেছেন গানের সম্রাট।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!