হোম » প্রধান সংবাদ » স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বলে কথা বগুড়া শাজাহানপুরে ঘাস ঢেকে কাবিখা প্রকল্পের টাকা লুট

স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বলে কথা বগুড়া শাজাহানপুরে ঘাস ঢেকে কাবিখা প্রকল্পের টাকা লুট

এম.এ রাশেদ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে ঘাস ঢেকে কাবিখা কর্মসূচীর একটি প্রকল্পের টাকা লুট
করেছেন প্রকল্প সভাপতি জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক প্রভাবশালী নেতা। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলা প্রকল্প অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯- ২০ অর্থ বছরের কাজের বিনিমিয়ে খাদ্য(কাবিখা) কর্মসূচির ১ম পর্যায়ে আশেকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পারতেখুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংস্কার বাবদ ৮ টন চাউল
বরাদ্দ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

যার সরকারি মূল্য ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯২০ টাকা। ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন
স্বপন প্রকল্প সভাপতি। তিনি বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য ও শাজাহানপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশে বিট বালু/মাটি দিয়ে ঘাস ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তা আবার ধুয়ে গিয়ে কোথাও কোথাও ঘাস বের হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এ প্রকল্পের পুরো টাকাই কাজ না করে আত্মসাত করতে চেয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি। সে কারণে তিনি মে মাসে দপ্তরী রেজাকে দিয়ে মাঠের এক অংশে আগাছানাশক স্প্রে করে ঘাস মেরে ফেলেন। এতে বিদ্যালয়ের সবুজ মাঠের একাংশ সাদা হয়ে যায়। নষ্ট হয় মাঠের সৌন্দর্য। তখন দূর থেকে মাঠ দেখে মনে হচ্ছিল যেন মাঠে মাটি কাঁটা হয়েছে। অফিসকে ম্যানেজ করে হয়তপুরো টাকাই পকেটে তুলতেন। বিষয়টি নিয়ে একটি অন-লাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হয়। ভেস্তে যায় সভাপতির অভিনব কৌশল। গত ১০/১২ দিন পূর্বে ২০
ট্রাক বিট বালু/মাটি বিছিয়ে দিয়ে ঘাস ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন জানান, কাজে কোন অনিয়ম করা হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী মাঠ সংস্কার করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(অতিরিক্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় চরম ব্যস্ততার মধ্যে জুন ক্লোজিং শেষ করতে হয়েছে। এ প্রকল্প দেখার সুযোগ-সময় হয়নি।

প্রকল্প সভাপতির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার নিয়ে চূড়ান্ত ডিও দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে
প্রকল্প পরিদর্শন করা হবে। যদি সিডিউল অনুযায়ী কাজ না পাই তাহলে কাজ না করা পর্যন্ত প্রকল্প সভাপতি পে-অর্ডার ফেরৎ পাবে না। তবুও যদি কাজ না করে তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!