হোম » প্রধান সংবাদ » স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভূয়া কৃষক সঞ্চয়ী হিসাব চালু করার ঘটনায় ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভূয়া কৃষক সঞ্চয়ী হিসাব চালু করার ঘটনায় ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ধর্মপাশা শাখার ম্যানেজার বিমল কুমার দেবের বিরুদ্ধে স্থানীয় দুজন কৃষকের সঙ্গে তদন্তের নামে অশুভ আচরণ ও তাঁদের কাছ থেকে আগে থেকে লেখা সম্বলিত কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই দুজন কৃষক ২৩ জুন মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এমডির কাছে ডাকযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। ভুক্তভোগী ওই দুজন কৃষক ও ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংক শাখা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ধর্মপাশা শাখায় চলতি বছরের ১৯ ফেব্রæয়ারি উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক শাহ রুবেলের নামে ২৩০ ও আশারফুল ইসলামের নামে ২৩৬ নং কৃষক সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে।

 

দুজন কৃষকের ছবি,জাতীয় পরিচয়পত্র সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ করে ও ফরমে ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে এই দুটি হিসাব খোলা হয়। দুটি সঞ্চয়ী হিসাবে আর্থিক লেনদেন পর্যন্ত করা হয়েছে। আর ভূয়া হিসাব খুলতে গিয়ে এই কাজে ব্যাংক ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ঠরা আর্থিক সুবিধাদি নিয়েছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে ওই দুজন কৃষক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২১ জুন রোববার সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনাটি তদন্ত করতে ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংকে যান কৃষি ব্যাংকের
সুনামগঞ্জ অঞ্চলের জেলা নিরীক্ষা কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ দেবনাথ। তদন্তকালে অভিযোগকারী দুজন কৃষককে সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ দিয়ে জানানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় তিনজন
সাংবাদিক ও উপজেলা যুবলীগের এক নেতা। সুনামগঞ্জ জেলা নিরীক্ষা কর্মকর্তার সামনেই ব্যাংক ব্যবস্থাপক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই দুজন কৃষককে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়াগ করেন।

 

এতে কৃষকরা অপারগতা প্রকাশ করায় ব্যাংক ব্যবস্থাপক ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ওই দুজন কৃষকের সঙ্গে অশুভ আচরণ শুরু করলে ওই দুজন কৃষক ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান। ভুক্তভোগী কৃষক শাহ রুবেল (৩৬) ও কৃষক আশরাফুল ইসলাম (৩৮) বলেন, আমাদের ছবি, আইডি কার্ড ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি,ওই অ্যাকাউন্টে টাকাও লেনদেন করা হয়েছে। আমরা এ নিয়ে গত ১১ মে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এমডির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগ পেয়ে এটি তদন্ত করতে সুনামগঞ্জ থেকে এক কর্মকর্তা আসেন। তদন্ত কর্মকর্তা আমরা অভিযোগকারী ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার কে নিয়েই আমাদের অভিযোগের তদন্তে বসেন।

 

কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা কিছু বলার আগেই ম্যানেজার আমাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এতে করে আমাদের কথা বলায় সমস্যা হয় তাই আমরা কিছু বলতে পারিনি তদন্ত কর্মকর্তার সামনে। ম্যানেজার সাব সাদা কাগজে আমাদের স্বাক্ষর দিতে বলেন। বুঝে শুনে স্বাক্ষর দিতে হবে বললে ম্যানেজার আমাদের দুজনকে চাপ সৃষ্টি করেন। এক র্পযায়ে তিনি অশুভ আচরণ করতে শুরু করলে স্থানীয় তিনজন সাংবাদিক ও একজন যুবলীগ নেতার হস্তক্ষেপে আমরা সেখান থেকে রক্ষা পেয়েছি। আমাদের সঙ্গে অশুভ আচরণ,স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অ্যাকাউন্ট খোলা,সাদাকাগজে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিসহ যাবতীয় বিষয়গুলো তদন্ত ঘটনায় জড়িত ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও অ্যাকাউন্ট খোলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

 

গোপন সূত্রে জানা যায়,কৃষকদের নামে সরকারের দেয়া ভর্ত্তুকীর টাকা ও খাদ্যগুদামের ধান ক্রয়ের টাকা আত্মসাৎ এর লক্ষে সুদখোর ও দালালদের স্বার্থে অসদুদ্দেশ্যে এ ধরনের ভূয়া হিসাব চালু করা হয়। এবং এর সাথে ব্যাংকের অসাধূ কর্মকর্তারাই জড়িত থাকেন পার্সেন্টিজ লাভের আশায়। ইতিপূর্বে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিজুরি গ্রামের নুরুজ্জামান মেম্বার ঋন সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে উক্ত ম্যানাজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বলেও জানা যায়। কৃষি ব্যাংকের ধর্মপাশার শাখা ব্যবস্থাপক বিমল কুমার দেব সুনামগঞ্জ
শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা।

বর্তমানে তিনি সিলেট শহরের খাদিমনগর এলাকায় বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই দুজনের নামে যেদিন ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে সেদিন আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমি কারও সঙ্গে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপও সৃষ্টি করিনি এবং অশুভ আচরণও করিনি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের জেলা নিরীক্ষা র্কমকর্তা রামকৃষ্ণ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন,ওইদিন আমার সামনে ব্যাংক mব্যবস্থাপক কারও সঙ্গে অশুভ আচরণ করেননি। এমনকি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপাচাপি সৃষ্টি করেননি। আমি ওইদিন কিছু
প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সেখান থেকে নিয়ে আসছি। খুব শীগ্রই এগুলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!